উখিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং

উখিয়া নিউজ ডটকম::
বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুতের তেমন কোন চাহিদা না থাকলেও উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ কোন প্রকার কারণ ও পুর্ব ঘোষণা ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ রাতদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। পবিত্র রমযান মাসকে সামনে বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড ক্ষোভ ও হতাশা। অনেকেই বলছেন পবিত্র মাহে রমজান দরজায় কড়া নাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং করলে রমযানের শুরুতেই বিদ্যুতের কি পরিনতি হতে পারে তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তার উপর কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল কতৃক রোহিঙ্গাদের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

উখিয়ায় পল্লীবিদ্যুতের প্রায় ১৮হাজার গ্রাহক রয়েছে। তৎমধ্যে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ছাড়াও বেশির ভাগ সংযোগ রয়েছে বাসা-বাড়ীতে। স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহক হাজী আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে জানান, বৃষ্টির ফোটা পড়লেই বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যায়। ঘন্টা ঘন্টা পর আর বিদ্যুতের দেখা মিলেনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে এর কোন সদুত্তর পাওয়া যায়না।

আবাসিক প্রবাসি বিদ্যুৎ গ্রাহক নুর জাহান সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান, গত ১৫দিন ধরে উখিয়া পল্লীবিদ্যুৎ তাদের ইচ্ছামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ দিচ্ছে। দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকেনা। বৃষ্টি হলে একেবারে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। এ অবস্থায় প্রচন্ড গরমে ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করতে হচ্ছে। এদিকে কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রীক ৩ শতাধিক মিটার থেকে ক্যাম্পে ও ক্যাম্প বাজারের দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়। প্রভাবশালীরা মিটার বসিয়ে রীতিমত ব্যবসা চালাচ্ছেন অবৈধ সংযোগ দিয়ে।

উখিয়ার ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের আলহাজ¦ কবির আহমদ সওদাগর অভিযোগ করে জানান, কোন প্রকার অজুহাত ছাড়া বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারনে শ্রমিকদের বিনা কাজে মজুরী পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ad

উখিয়া ষ্টেশন জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, এমনিতে বিদ্যুৎ নেই। উপরন্ত পবিত্র রমযান তারাবির নামাজ পড়ার জন্য বেশ কয়েকজন ধর্মভিরু দাতা মসজিদের জন্য ১০টি এসি দান করেছে। উক্ত এসি গুলো মসজিদে বসানোর পর বিদ্যুৎ সংযোগ চাইতে গেলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তা দেড় লাখ টাকা দাবী করছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন জানান, দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকেনা। কিন্তু মাসের শেষে অতিরিক্ত বিল করতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করছেনা। কেউ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে।

ডেইলপাড়া গ্রামের নুর আহমদ, ছব্বির আহমদ, আলি মিয়া, নজির হোসেনসহ একাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক অভিযোগ করে জানান, বাতাসে গাছ ভেঙ্গে একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। ফলে ২ শতাধিক পরিবারকে প্রায় ১০দিন বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় থাকার পরও মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুনরায় ট্রান্সফরমার লাগিয়ে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এভাবে অসংখ্য গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম সালাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার তার চিরাচরিত তথ্যের মতো সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় গ্রীড লাইন থেকে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ৮ মেগাওয়াট। যে কারনে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বৃষ্টি পড়লে বিদ্যুৎ কেন বন্ধ করা হয় জানতে চাওয়া হলে দুর্ঘটনার আশংখায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পল্লীবিদ্যুতের এসমস্ত কথাবার্তা নিয়ে সাধারণ গ্রাহক মোটেই সন্তোষ্ট হতে পারছেনা। গ্রাহকদের দাবী রমযান মাসে বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।