হোটেলের নোংরা পানি যাচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে

অপরিস্কার ও নোংরা পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলীর মোড়। বিভিন্ন হোটেলের ব্যবহৃারিত নোংরা এসব পানি যাচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। গত দেড় মাস ধরে নিয়মিত কলাতলীর পয়েন্ট থেকে হোটেলের দুর্গন্ধ পানি সাগরে পতিত হলেও সংশ্লিষ্টদের নেই কোনো মাথা ব্যথা। এমনকি এসব নোংরা পানিতে দুর্গন্ধ হয়ে উঠেছে পুরো সৈকত এলাকা। এমন দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে পর্যটকসহ স্থানীয়রা। শুধু নোংরা পানি নয়, ময়লা আবর্জনার স্তুপও রয়েছে সাগরতীরে।

স্থানীয় বাসিন্দা কলাতলী উত্তর আদর্শগ্রাম সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, কলাতলী মোড় থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত সড়কটি হরহামেশা জলাবদ্ধতায় আবদ্ধ থাকে। আশপাশের হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা পানি রাস্তায় এসে জমে থাকে। আবর্জনায় নালা ভরাট থাকায় ময়লা পানিও রাস্তায় চলে আসে। নোংরা পানি চলাচলের পথ না থাকায় সেই পানি নামছে সৈকতে। এতে কলাতলী পয়েন্টের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছে পর্যটকরা। অনেক পর্যটক কক্সবাজারের পরিবেশ নিয়ে খারাপ মন্তব্য করছে। গত দেড় মাস ধরে নোংরা পানিতে রাস্তায় সয়লাভ এবং সাগরে নোংরা পানি নামলেও সংশ্লিষ্ট কারো নজর নেই।

কলাতলী পয়েন্টের স্যান্ডি বীচের পরিচালক আব্দুর রহমান বলেন, কলাতলীর প্রায়সব অলি-গলি চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নালার পানি উঠে আসে রাস্তায়। এখন কোন পর্যটক কলাতলী পয়েন্টে আসতে পারেনা দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির জন্য। সড়ক থেকে সোজা দুর্গন্ধ পানি গুলো নামছে সৈকতে। একটি নদীর মতো হয়ে নোংরা পানি যাচ্ছে সৈকতে। এমন দুর্গন্ধে সৈকতের বালিয়াড়িতেও কেউ হাটতে পারছে না। পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে দিন দিন সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে কলাতলীর এই পয়েন্ট।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হোসেন খান বলেন, প্রায় হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের পানি গুলো রাস্তায় চলে আসে অনেক সময়। এতে রাস্তা নোংরা হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টিপাতে কলাতলী এলাকার নালা গুলো ভরাটের কারণেই মূলত রাস্তার উপর নোংরা পানি দেখা যাচ্ছে। এতে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তবে দ্রুত সময়ে এসব নোংরা পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন