ad

“সুখী হও”

আমার ভাবশিষ্য শুভংকর।সমাজবিজ্ঞানের তালিমে নয়।দেয়াও হয়নি কখনও। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র বলে।বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্ররা আমার সাবজেক্টটি নিতে পারবে না বলে সীলেবাসে বাঁধ ছিল।

যারা এমন সীলেবাসের দেয়ালে অদৃশ্য হতো আমি তাদের মধ্যে বাছাই করা কিছু শিখতে আসাদের নিয়ে জীবনবোধের বিভিন্ন তত্ত্ব ও তথ্য সাথে অভিজ্ঞতার অমীমাংসিত অংশ নিয়ে ক্লাস শেষে বসতাম।

জমত ক্ষুদে ভাবুকদের আলাপন। পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্ক। ।সে এক অনন্য আবহমাখা জগৎ। শুভংকর ছিল সেই দুইদিনের সাপ্তাহিক আসরের প্রভাবশালী প্রভাবক।

উখিয়া কলেজে শুভংকরের দিনশেষ।সে ঘরে ফিরে। হাই..হ্যালো পয়লা বৈশাখ,চঙ্গদান অনুষ্ঠান। এইসবে হতো আলাপন।দিনের মালায় বছর বছর গড়াচ্ছে।

শুভংকর প্যাথলজি ডিপ্লোমা পড়ে।এরিমধ্যে একদিন একান্তে দেখা। কক্সবাজার আল ফুয়াদ হাসপাতালের কেন্টিনে।কথারচ্ছলে সে আমারে জানায় “স্যার নৈতিকতার থিমগুলো যেসব আমাদের দিতেন এখনো কি এগুলো পড়ান স্যার!

আমি থমকে গেলাম!জানতে না চাওয়ার আগেই সে আমারে অনুরোধ রাখে এইসব আর কারো মাথায় দিয়েন না স্যার।যুগের বদল হয়েছে ।মানুষের চিন্তায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নষ্টদের দখলেই চলেছি দিন দিন।তাদের সাথে পাঞ্জায় নৈতিকতার শিক্ষাগুলো দিন দিন পেছনে ঠেলছে নীতিবানদের।

শুধু খাঁটি স্বর্ণ দিয়ে গয়না হয় না স্যার।বাস্তবতা শিখিয়েছে শুধু আবেগ দিয়েও পৃথিবী চলে না।শুধু বিবেক দিয়েও না। যারা আপনার ভাবশিষ্য তাঁদের বাঁচতে শেখাবেন স্যার।কথাটা মনে রাখানোর জন্য কিছুদিন পর পর পৃথিবীর অমূল্য সম্পদ বই উপহার পাঠিয়ে যাব স্যার! যতদিন বেঁচে রই।
গোস্তাকী মাফ করবেন স্যার!জানি বেয়াদবি করেফেলেছি ” বাস্তবতার কারনে আবেগ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি স্যার।

শুভংকর নুরুলইসলাম চৌধুরী ট্যাকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক। আজও সে কিছু বই পাঠিয়ে তার কথা রাখে।
আমি জন মিল্টনের দেহ,মন আত্নার সুসামঞ্জস্য বিকাশ সাধনের নাম শিক্ষা থিম বাদ রেখে এখন পড়াই জগৎ, সংসার,প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা… এই চার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি অর্জনের নামই শিক্ষা।

শুভংকর সুখী হও।জীবনের সুখটুকুন সুখ ভোগ করে পৃথিবী থেকে যেও…. সে প্রত্যাশা মোর!

লেখকঃ-আলমগীর মাহমুদ।
বিভাগীয় প্রধান সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।উখিয়া কলেজ কক্সবাজার।

ad