সিলেটে বিপলু কক্সবাজারে কে?

সিলেটের মতোই এই দলে কক্সবাজারেরও চার ফুটবলার। ইব্রাহিমের বাড়ি চকরিয়ায়, কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামেই তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি। ডিফেন্ডার সুশান্ত ও গোলরক্ষক আনিসুর রহমানও চকরিয়ার। স্ট্রাইকার তৌহিদ মহেশখালীর ছেলে। জেলা স্টেডিয়ামে তাঁরও ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। এখানে লিগ খেলেছেন রামু ক্লাবের হয়ে, সুযোগ পেলে এখনো এসে উপজেলা ফুটবল খেলে যান মহেশখালীর হয়ে।

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে তৌহিদুল আলম, ইব্রাহিম, সুশান্তদের নিয়ে দারুণ উত্তেজনা। অনুশীলন শেষে ইব্রাহিমকে প্রশ্নই করে বসলেন একজন, ‘সিলেটে তো বিপলু জিতিয়েছিল। কক্সবাজারে আপনারা কি পারবেন এই মাটির মান রাখতে?’ কক্স সিটিতে খেলে উঠে আসা তরুণ এই উইঙ্গার এমন প্রশ্নের জন্য যেন তৈরিই ছিলেন, ‘অবশ্যই, আমরা চেষ্টা করব কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে। এই মাঠ আমার ঘরের মাঠ। এখানে ভালো করার জন্য আর কোনো অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না।’

সিলেটের মতোই এই দলে কক্সবাজারেরও চার ফুটবলার। ইব্রাহিমের বাড়ি চকরিয়ায়, কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামেই তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি। ডিফেন্ডার সুশান্ত ও গোলরক্ষক আনিসুর রহমানও চকরিয়ার। স্ট্রাইকার তৌহিদ মহেশখালীর ছেলে। জেলা স্টেডিয়ামে তাঁরও ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। এখানে লিগ খেলেছেন রামু ক্লাবের হয়ে, সুযোগ পেলে এখনো এসে উপজেলা ফুটবল খেলে যান মহেশখালীর হয়ে। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে সিলেটেই তাঁর মাঠে নামা হয়েছে। গোল পাননি, সেই আক্ষেপ সঙ্গী করেই এসেছেন নিজের জেলায়। কক্সবাজারবাসীর গোলের চাওয়াটা তৌহিদের কাছেই বেশি। ইব্রাহিম সিলেটে দুই ম্যাচেই খেলেছেন, তবে বদলি হিসেবে। প্রথম ম্যাচে ৯ মিনিট মাঠে ছিলেন, ওইটুকু সময়েই গতির ঝলক ও মুভমেন্টে কোচের আস্থা কেড়েছেন। ফিলিপাইনের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেতে মরিয়া বাংলাদেশের প্রথম বদলি খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ শেষ আধঘণ্টায় গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ভালোভাবেই। শেষ পর্যন্ত সেই গোল যদিও পাওয়া যায়নি, তবে সেই ম্যাচ থেকেই সেমির আত্মবিশ্বাস কুড়িয়েছে জেমি ডের দল।

ad

ফিলিস্তিনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তাই গোলের প্রত্যাশায় ভাটা পড়ছে না। ইব্রাহিমের বাবা মোহাম্মদ ইয়াসিন বন বিভাগে কর্মরত। কক্সবাজারেই তাঁর অফিস। গতকাল ও পরশু দিনভর তিনি জেলা স্টেডিয়ামেই কাটালেন। উত্তেজনা তাঁকেও ছুঁয়ে যাচ্ছে, জানালেন গোল নয়, ছেলেকে ভালো খেলতে দেখলেই তিনি খুশি থাকবেন। ২০১২ সালে পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নাম লিখিয়েই শিরোপা জিতে নিয়েছিল কক্সবাজারের দল কক্স সিটি। সেই দলটিরই জুনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু ইব্রাহিমের। কক্স সিটির তৎকালীন খেলোয়াড় কাম ম্যানেজার খালেদ আজম কাল জেলা স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়েই ইব্রাহিমদের অনুশীলন দেখতে দেখতে বছর পাঁচেক আগের স্মৃতি রোমন্থন করেন, ‘কক্সবাজারের উঠতি সব ফুটবলার এই মাঠেই অনুশীলন করত তখন। এই মাঠে খেলা দেখেই ইব্রাহিম, সুশান্তদের আমাদের দলে নিই। কক্স সিটির জুনিয়র খেলোয়াড় হিসেবেই তখন আমাদের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করে ওরা। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে কয়েকটি ম্যাচে মাঠেও নামিয়েছিলাম।’ তখনো ১৬-ই পেরোয়নি ইব্রাহিমের। পেশাদার লিগের দলগুলোকে বাফুফে অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্ট করতে চাইলে ইব্রাহিম নাম লেখায় মুক্তিযোদ্ধায়। তা ছাড়া উপায়ও ছিল না। কক্স সিটি চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেও প্রিমিয়ারে খেলেনি আর্থিক সংগতি নেই বলে। বাফুফে দলটিকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। সেই কক্স সিটি হারিয়ে গেছে, কিন্তু কাল জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর সেই জুনিয়র খেলোয়াড়দের দেখে বিপ্লব আবেগাপ্লুত।

সেই মাঠেই আগামীকাল এই তরুণদের দেশের জন্য লড়তে দেখাটা গর্বের কক্সবাজারবাসীর জন্য। অবশ্য টুর্নামেন্টটা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে কক্সবাজারের ফুটবলারদেরও শুধু আঞ্চলিকতার ভাবনায় আটকে থাকা কঠিন। তৌহিদই যেমন বলছিলেন, ‘আমার বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের সদস্য সবাই মাঠে থাকবেন। তাঁদের সামনে ভালো কিছু করতে পারলে তো অবশ্যই ভালো লাগবে। গোলটা ভাগ্যেরও ব্যাপার। আমার পায়ে সেটা না হলেও আমার কষ্ট থাকবে না যদি আমরা জিততে পারি।’ রাইটব্যাক সুশান্তরও দল নিয়ে ভাবনা। ফিলিপাইন ম্যাচে বিশ্বনাথের জায়গা নিয়েছিলেন তিনি, কক্সবাজারে আরেকটি সুযোগ পেলে জানবাজি রেখে লড়ার পণও তাঁরও। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোও ডাক এলে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য তৈরি। কাকতালীয়ভাবে কক্সবাজারের চার ফুটবলারই এবার একসঙ্গে খেলছেন নতুন দল বসুন্ধরা কিংসে। নীলফামারীতে মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্টকে ৪-১ গোলে হারানো ম্যাচটাতেও তাঁরা ছিলেন। ছাপ রাখতে চান জাতীয় দলের সাফল্যেও। খেলাটা কক্সবাজারে বলে সেই চাওয়াটা আরো বেশিই।