সিঙ্গার ফ্রিজে কিয়ামত তক ওয়ারেন্টি, প্রতারনার বাহার !

unnamedআতিকুর রহমান মানিক::

কক্সবাজার জেলাব্যাপী ফ্রিজ/ফ্রিজার বিক্রিতে ওয়ারেন্টির নামে ম্যারাথন প্রতারনায় নেমেছে সিঙ্গার কোম্পানি। বিক্রির সময় মন ভুলানো কথার মাধ্যমে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি ও ক্ষেত্রবিশেষে কিয়ামত পর্যন্ত গ্যারান্টির নিশ্চয়তা দিয়ে ক্রেতাদের ব্রেইন ওয়াশ করে নিম্নমানের এসব ফ্রিজ কোন রকম গছাতে পারলেই পরে তথাকথিত ওয়ারেন্টি/গ্যারান্টির কোন খবর থাকেনা বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। আসন্ন কোরবানীর ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে বিভিন্ন অফার ও ডিসকাউন্টের প্রলোভন দেখিয়ে মেড ইন চায়না নিম্নমানের ফ্রীজ বিক্রির প্রতিযোগিতায় নেমেছে হায় হায় কোম্পানী সিঙ্গার। এমনটাই জানিয়েছেন ভুক্তভোগি ও প্রতারিত বিভিন্ন গ্রাহক। প্রতারনার এ “সিঙ্গার ষ্টাইলে” প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছেন গ্রাহকরা। প্রতারিত গ্রাহকরা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা সদর ও হাটবাজারে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে উঠা সিঙ্গার শো-রুম থেকে বিভিন্ন ডিজাইনের ফ্রিজ কেনার সময় কমপক্ষে ৫ বছর ও ক্ষেত্রবিশেষে আজীবন গ্যারান্টি /ওয়ারেন্টি প্রদান এবং নষ্ট হলে বাড়িতে গিয়ে ঠিক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু চীনের তৈরী নিম্নমানের এসব ফ্রিজে ৫/৬ মাস ব্যবহার করার পরেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তখন ওয়ারেন্টি কার্ড নিয়ে সিঙ্গার শো-রুমে যোগাযোগ করলে শো-রুম থেকে এক মেকানিকের মোবাইল নম্বর ধরিয়ে দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ঐ মেকানিকের সাথে যোগাযোগ করলে গ্রাহকদের থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে ও অনেক সময় নষ্ট হওয়া ফ্রিজ চেক করে দেখতেও টাকা দাবি করে বসে এসব মেকানিক। এ ব্যাপারে শো-রুমে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোন কাজ হয়না। অবশেষে ক্রয়ের ৫/৬ মাসের মধ্যেই নষ্ট হওয়া ফ্রিজ পকেটের টাকা দিয়ে ঠিক করতে বাধ্য হন গ্রাহকরা। অভিযোগ উঠেছে যে, মেকানিক ও সিঙ্গার কর্মকর্তারা পারস্পরিক বুঝাপড়া করে গ্রাহক ঠকানোর এ খেলায় নেমেছেন। বিশেষ করে সদরের ঈদগাঁও বাসষ্টেশনস্হ সিঙ্গার প্লাস শো রুমের ব্যবস্হাপক ওবায়দুল হক এ প্রতারনায় নেমেছে বলে জানা গেছে। জালালাবাদ পূর্ব ফরাজী পাড়ার গৃহিনী জান্নাতুন নাঈম জানান, কিছুদিন আগে উক্ত শো রুম থেকে ক্রয় করা সিঙ্গার ব্র্যান্ডের ফ্রিজ সম্প্রতি নষ্ট হয়ে গেলে শো-রুমে ওয়ারেন্টি কার্ড জমা দিলে ওয়ারেন্টি মোতাবেক ঠিক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ওবায়দুল হক। কিন্তু কয়েকমাস গত হলেও বিভিন্ন তালবাহানায় নষ্ট হওয়া ফ্রিজ ঠিক করে দেয়নি তারা। নষ্ট এ ফ্রীজ অব্যবহৃত থাকায় এখন স্ক্র্যাপে পরিনত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জালালাবাদ খামার পাড়ার শাহিদ জানান, নষ্ট হওয়া একটি ফ্রীজের ব্যাপারে উক্ত শো রুমে যোগাযোগ করলে কয়েকদিন পরে মেকানিক যাবে বলে ক্রয় মেমো ও ওয়ারেন্টি কার্ড রেখে দেয়। কিন্তু একসপ্তাহ পরেও মেকানিক না যাওয়ায় শো রুমে যোগাযোগ করলে চরম দূর্ব্যবহার করে শো রুম ম্যানেজার ওবায়দুল। তখন ওয়ারেন্টি কার্ড ফেরৎ চাইলে “ঢাকায় হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি” বলে ওয়ারেন্টি কার্ড গায়েব করে ফেলে। এমনি অভিযোগ আরো অনেক গ্রাহকের। উপরোক্ত ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়ে ঈদগাঁও বাসষ্টেশনস্থ সিঙ্গার প্লাস শো-রুমের ম্যানেজার ওবায়দুল হক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। ভুক্তভোগী আরো কয়েকজন গ্রাহক জানান, নিম্নমানের ফ্রিজ ক্রয় করে এরকম প্রতারণার ব্যাপারটি সিঙ্গারের দক্ষিন চট্টগ্রাম অঞ্চলের ম্যানেজার নজরুল ইসলামকে জানালে বিষয়টি সমধানের আশ্বাস দিয়েও পরে আর ফোন রিসিভ করেননি। উপরোক্ত ব্যাপারে অভিযুক্ত সিঙ্গার কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর অনেক্ষন ফোন রিসিভ করেননি তিনি। পরে অন্য নাম্বার থেকে ফোন করলে যা পারেন রাগত স্বরে “যা পারেন করেন, সার্ভিস দেয়া যাবেনা” বলে ফোন বিচ্ছিন্ন করে দেন নজরুল। সিঙ্গার ফ্রিজ কিনে এরকম ওয়ারেন্টি প্রতারনার শিকার ক্রেতারা এখন মাথায় হাত দিয়েছেন।