সিএনজি ড্রাইভার বনাম এনজিও’র নারী কর্মী

সেদিন সিএনজিযোগে কক্সবাজার যাচ্ছিলাম।পাঁচজন পুরুষযাত্রী বটে।সিএনজি চালক বেশ আলাপপ্রিয় মানুষ।মুখভর্তি দাড়ি।কথা শোনেই অনুধাবনযোগ্য যে বেশ পরহেযগার।আড্ডার অবসরে প্রসঙ্গ উঠলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও চাকরি নিয়ে।সিএনজি চালককে চাচা বলে সম্বোধন করলাম।হ্নীলা টু কক্সবাজার ড্রাইভ করতে করতে চাচার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমে গেল বর্ণনাযোগ্য বহু ঘটনাবলী।ক্যাম্পে ৭০% নারী কর্মী।জীবনের প্রথম চাকরি করছে এমন নারী ৬৫%।জীবনের প্রথম একাকী ঘর থেকে বের হয়ে চাকরি করছে নারী ৭৫%।

অসংখ্য সুদর্শন,রোমান্টিক,সুঠামদেহী,রসজ্ঞ গল্পকার আর আশেকী পুরুষের সহজলভ্য সন্ধান পেয়ে অধিকাংশ রমণী ধীরলয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে নবপ্রেমস্রোতে।বহুপ্রণয়ে আসক্ত বেশকিছু রমণী হিমশিম খাচ্ছে এই বিড়ম্বনায় যে শতো শতো রোমাঞ্চযোগ্য পুরুষের উপচে পড়া ভিড়ে কাকে ছেড়ে কাকে রাখে।ক্যাম্পে চাকরিরত ৬০% নারীদের চাকরির ডিউটি শেষ হয় বিকাল২.৩০ কিংবা ৩ টায়।চাচা একটি কড়া ব্রেক ধরলো।সামনে মালবাহী ট্রাক বলে কথা।ক্যাম্পের ডিউটি শেষে বেশ কতকগুলো জোড়া জোড়া কপোত- কপোতী আই মিন প্রেমিকযুগল সিএনজি রিজার্ভ নেয়।সোজাসুজি গন্তব্য কলাতলী রোমাঞ্চকর বিলাসভূমিতে।কতক যুগল আবার বিস্তর তাড়াহুড়োয় ডাবল ভাড়া চুকিয়ে চলে যায়।কক্সবাজার কী কাজে যাচ্ছে প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর ট্রেনিং এ যাচ্ছে।চাচার মাথায় খটকা লাগে- শালার ট্রেনিং,একসাথে নারী- পুরুষ সহকর্মী মিলে যাচ্ছে ভালো কথা,স্রেফ দুজনে মিলে রিজার্ভ কেন? তাও আবার ডাবল ভাড়া কেন? চাচার মনে বিড়বিড় করা প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনা।

সিএনজি খানিকবাদে কোর্টবাজার ক্রস করলে চাচা সব প্রশ্নের জবাব পেয়ে যায়।গাড়ির পেছনে শুরু হয়ে যায় রোমাঞ্চলীলা।যাত্রী যেন সানি আপু আর হাশমী ভাইয়া।যেন বলিউডের কোন রোমাঞ্চধর্মী হাউসফুলযোগ্য ভিডিওদৃশ্য।চাচা বলে উঠলো আফসোসমাখা কণ্ঠে- আস্তগফিরুল্লাহ।ঘণ্টাখানিকবাদে কলাতলী মোড়ে গাড়ি পৌঁছায়।যাত্রীর ছেলেটা সিএনজি ড্রাইভার চাচার নাম্বারটি নিল।অনুরোধভরা কণ্ঠ চাচাকে বললো-চাচা আমাদের ঠিক ৬. ৩০ এ একটু নিতে আসবেন অমুক কটেজের সামনে- আপনাকে আমরা খুশী করব।এ কেমন ট্রেনিং!!! চাচা আবারো কড়া ব্রেক কষলো।আমরা হতবাক হয়ে শুনছিলাম চাচার মুখনিঃসৃত লোম খাড়া হওয়া অশ্রুতপূর্ব গল্প।একটু পরে চাচার দুচোখভর্তি পানি।কণ্ঠ ভেজা ভেজা।চাচার কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে যা শুনি-” আমার এক কলেজপড়ুয়া সুন্দরী মেয়ে আছে।দুমাস হলো ক্যাম্পে এনজিও চাকরী করে।মাঝে মাঝে মাসে দুএকদিন রাত করে বাড়ি ফেরে।ধরুন রাত নয়টা।মাঝে মাঝে রাতে কক্সবাজার হোটেলে থেকেও যায়।

মেয়েটির মুখে বলতে শুনি ট্রেনিংয়ের কারণে দেরি হয় আর ট্রেনিংয়ের কারণে কক্সবাজার হোটেলে থাকতেও হয়।চাচার ভীষণ উদ্বেগ- সত্যি সত্যি মেয়েটি ট্রেনিংয়ে যায়তো নাকি সিএনজি রিজার্ভের দ্বিতীয় পর্ব!!” চাচার কান্না দেখে আমরা যাত্রীরাও কেঁদে ফেললাম।আল্লাহ সব নারীকে হেদায়ত দান করুক আর পর্দারসহিত ইজ্জত রক্ষা করুক।আমিন।

লেখক-
হুমায়ুন কায়সার মামুন: