শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়ে ‘তোপের মুখে’ সাকিব

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রায় অচল রাজধানী ঢাকা। সেই আন্দোলনে সহমত জানিয়ে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের আরও অনেক স্থানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা। সেই আন্দোলনে সহমত জানিয়েছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তাতেই পড়েছেন তোপের মুখে।

শুক্রবার, ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমি এখন ফ্লোরিডায় আছি। আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমার তরুণ ফ্যানদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাই। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থী দিয়া ও আবদুল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি প্রচণ্ড মর্মাহত ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম তার সহপাঠী থেকে শুরু করে সারা দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা দোষীদের শাস্তি দাবি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে, তখন গর্ববোধ করেছি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে। দেশে থাকলে আমিই তোমাদের অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য চলে আসতাম।’

চলমান আন্দোলনকে সাধুবাদ জানিয়ে সাকিব আরও বলেন, ‘তোমাদের সাধুবাদ জানিয়ে বলতে চাই, তোমাদের দাবি কার্যকর হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ছাড়াও নিরাপদ সড়ক আইন করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তোমাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, ক্লাসে ফিরে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে। তোমরা যা করেছ, তা এ দেশে ইতিহাস হয়ে থাকবে। এ অর্জন সফল হবে তোমাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে। তোমাদের দাবি পূরণ হয়েছে এবং হচ্ছে। ব্যত্যয় ঘটলে আমাকে পাবে তোমাদের সঙ্গে।’

সাকিবের এই বক্তব্যের পর সমর্থকরা একরকম চেপে ধরেন তাকে। এক সমর্থক লেখেন, ‘দয়া করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হবেন না। আপনি আমাদের আইডল আছেন, থাকবেনও। এই আন্দোলনের দায়ভার আমাদেরকেই নিতে দিন।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আপনার এই বক্তব্য দেখে আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা চলে গেছে।’

সমর্থকরা যখন ফেসবুকে তার পোস্টের নিচে এমন মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, তখনই উল্টো পথে হাঁটলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। একরকম চাপে পরে ডিলিট করে দিয়েছেন সেই পোস্ট। পরে তিনি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন।

সেখানে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদেরকে ধন্যবাদ, তাদের যুগান্তকারী আন্দোলনের জন্য। আমি তোমাদের এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি। সেই সাথে বলতে চাই এটা (নিরাপদ সড়কের দাবি) শুধু ছাত্রদের দাবি হওয়া উচিত না, এটা পুরো বাংলাদেশের মানুষের দাবি হওয়া উচিত। আমার সন্তান আছে, অনেকেরই আছে। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদে রাস্তায় চলাফেরা করুক। আমি ছাত্রদের ধন্যবাদ দিতে চাই, কারণ তোমরা আমাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছো। ভবিষ্যতে এমন আন্দোলন আবারও করতে হলে তোমরা আমাকে পাশে পাবে।’