শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে রোহিঙ্গা ছাত্র, মিথ্যা মোটিভেশনাল বক্তব্যে তোলপাড়

শাহেদ মিজান::
সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে এক রোহিঙ্গা যুবক! তার বাড়ি হ্নীলার নয়পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তার কথিত কষ্টের জীবন নিয়ে দেয়া মোঃ জুনাইদ নামের ওই ছাত্রের এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর হ্নীলার লোকজন তাকে রোহিঙ্গা হিসেবে সনাক্ত করেছেন। রোহিঙ্গা হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এবং মোটিভেশনাল ভিডিও’র নামে মিথ্যাচার করায় ওই যুবক নিয়ে টেশনাফসহ সর্বত্র বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা গেছে, কথিত কক্সবাজারে বাসিন্দা, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুনাইদ নামের ওই ছেলের একটি মোটিভেশনাল ভিডিও কয়েকদিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ছেলেটির সংগ্রামী (তার ভাষ্য মতো) জীবন কাহিনীর শুনে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। বেশ বাহবাও পাচ্ছে সে। কিন্তু ছেলেটি একজন রোহিঙ্গা এবং তার মোটিভেশনাল বক্তব্যও মিথ্যা- এমনটি বলছেন টেকনাফের হ্নীলার লোকজন। ছেলেটির মিথ্যাচারমুলক বক্তব্যে তাকে জানাশুনার হ্নীলার লোকজন বেশ হতবাক হয়েছেন। তাকে খুব কাছে দেখা ও জানা এমনটি একজন হ্নীলা ইউনিয়নের লোকজন।

ওই বক্তব্যে জুনাইদ তার বাড়ি কক্সবাজারেও বললেও কোন উপজেলায় তা বলেনি। সে বলেছে, তার মা-বাবাকে সে দেখেনি। অনাহারে থেকেছে দিনের পর দিন। লাকড়ি কুড়িয়ে বিক্রি করেছে, ইট ভেঙেছে, বোটে গিয়ে মাছ ধরেছে, রাখালের কাজ করেছে, রাজমিস্ত্রির কাজ করেছে। আরো বলেছে, এমন কোনো কাজ নেই সে করেছে। এসব করে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করেছে।
এই নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্দ আলীর পুত্র তারেক মোহাম্মদ রনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, শাবিপ্রবিতে বক্তব্য দেয়া জুনাইদ একজন রোহিঙ্গা। তার বাড়ি হ্নীলা নয়াপাড়া ক্যাম্পে। তার পিতা-মাতা বেশ আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে সেখানে আশ্রয় নেয়। খুব সম্ভবত: জুনাইদের জন্মও ক্যাম্পে। বর্তমানে তার দুইভাই ক্যাম্প থেকে বের হয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছে। তাদের মা বেঁচে নেই। বাবা ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছেন। তার নাম আবুল কাশেম। তিনি সেখানে বিয়ে করেছেন। সেখান থেকে বর্তমানে জুনাইদের জন্য মাসে ৩০ হাজার টাকা করে পাঠান। তবে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয় অনেক আগেই।

এই প্রসঙ্গে তারেক মোহাম্মদ রনি বলেন, শাবিপ্রবিতে দেয়া রোহিঙ্গা ছাত্র জুনাইদের দেয়া সব কিছুই মিথ্যে ও বানোয়াট। ছেলেটাকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি। সে একসময় হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। সেখান থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং উখিয়া কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাশ করে। প্রাইমারি কোথায় পড়েছে তা জানা নেই। সে তার বক্তব্যে যে বলেছে, সে কঠোর পরিশ্রম করেছে। ইট ভেঙেছে, লাকড়ি কুড়িয়েছে, মাছ ধরেছে বা আরো বলেছে সবই ডাহা মিথ্যা। এসব কাজ করতে কোথাও তাকে দেখা যায়নি। যতটুকু জানা গেছে, সে ছোটবেলায় ক্যাম্পেই ছিলো মা ও ভাইদের সাথে। পরে সেখান থেকে বের হয়ে হ্নীলায় স্থানীয়দের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলো। তার একটা বাজে অভ্যাস- স্কুল জীবনে সে আরো বড় বড় মিথ্যে ও বানোয়াট কথা বলে মানুষের কাছ থেকে সমবেদনা নিতো। আমার বড় ভাই তাকে বই খাতা কিনে দিতো আর প্রতিদিন সে আমার বাড়িতে ভাত খেতো।

এই রোহিঙ্গা ছাত্র জুনাইদের সহপাঠী মোঃ রফিক আলী বলেন, জুনাইদ আমার সাথে পড়তো। আমরা ২০১৫সালে এক সাথে হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছি। পরে সে উখিয়া কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করে। পরে তার আর খোঁজ ছিলো না। ভিডিওটা দেখে তাকে চিনতে পারলাম। ভিডিওটা দেখে আমি অবাক।

মোঃ রফিক আলী আরো বলেন, আমি মোটেও তার শিক্ষা অর্জনের বিপক্ষে নয়। শিক্ষা অর্জন প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু বক্তব্য নিয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। সে যেভাবে মিথ্যাচার করেছে নিন্দনীয়। সে মিথ্যাচারের মাধ্যমে ব্রেইনওয়াশ করে সুবিধা নেয়ার পাঁয়তারা করছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, রোহিঙ্গা ছাত্র জুনাইদের নাটকীয় মোটিভেশনাল বক্তব্যের পিছনে বড় একটি আন্তর্জাতিক কুচক্রী মহল জড়িত থাকতে পারে। এই মহলটি তাকে দিয়ে একটি সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করে থাকতে পারে। কিন্তু কথা হলো- শাবিপ্রবির মতো একটি শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গাতেও রোহিঙ্গাদের বিচরণ অগ্রহণযোগ্য। জুনাইদ দেশের তরুণদের অধিকার করেছে। মানবতা অন্য কথা।

জানতে চাইলে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, ছেলেটিকে আমি খুব ভালো করে চিনি। ছেলে হাইস্কুলে পড়ার অসহায় হিসেবে আমাদের বাড়িতে খেতো। আমার মা তাকে আদর-যতœ করতেন। কিন্তু মেয়ে সংক্রান্ত একটি কারণে পরে তাকে আর আমরা আশ্রয় দিইনি। সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া শাবিপ্রতিতে দেয়া তার ভিডিওটিতে আমি হতবাক। আমার জানা মতে , সেব কিছু মিথ্যা বলেছে। মিথ্যা বলে মানুষের সহান

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন