রোয়াইঙ্গাদের যত হাসি মস্করা ও ঢং

-আলমগীর মাহমুদ 
রোয়াইঙ্গারাও মানুষ। তাদেরও আছে হাসি মশকারার ঢং। আমরা যেমন কারো বলতে গিয়ে বুলাই সিলেটীরা মহিলারে পুরি কয়,সিলেটে গিয়ে চা’য়ের দোকানে বসে কখনও পুরি দিতে বলবি না খবর আছে।

চাটগাঁইয়া মানেই গরুর মাংস ভক্ষনে ওস্তাদ।গরুর মাংস না হলে কি চাটগাঁইয়াদের চলে! একজেলার মানুষ অন্যদের নিয়ে এমন খোশগল্প বেশ মজাদার।কথায় কথা উঠলেই এমন খোশগল্পে চাটি ডেক্সীর শেষ মজাদার জিহ্বায় চাটার মতো করে। সাথে হাসাহাসি,ভেংচি কাটানি।

রোয়াইঙ্গা ক্যাম্পে খোলা আকাশের নীচে তেরপলের ঘেরাবেড়া ছাউনীর আছে আছে নাই নাই খুপড়িতে তারাও হাসি মশকারা ঢং এ কাটায়। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয় আমাদের বুলি।

# মহিলা#
রোয়াইঙ্গারা মেয়েলোককে বলে ‘মিয়ালাপোয়া’ ‘মহিলা’ শব্দটা তাঁদের কাছে অচিন।ক্যাম্পে তাঁরা এই শব্দটির সাথে পরিচিত হয় পানি আর তৈলের মিশ্রনের মত করে।

প্রত্যেক দিন রোয়াইঙ্গাদের দেখভালের জন্য বিভিন্ন N.G. O কর্মীরা যখন তাঁদের সেটে যায় তখন তারা বেশ রসিয়েই বড় করে রোয়াইঙ্গা ক্যাম্পে থাকা অন্যদেরকে উদ্দেশ্যে করে কইতে রয়.. মহিলা আইস্যে (এসেছে) মহিলা..’কুম’ দাও।কুম..!( বসার টুল)

# লইনচা#

আমাদের সেনাবাহিনী, বিজিবি দের হাতে থাকা অস্ত্রকে তারা ‘লইনচা ‘বলে ভয় পায় বেশ। মায়ানমারের জান্তাবাহিনী রকেট ল্যাঞ্চারকে তারা লইনচা বলে চিনে।বেশ ভয় এই লইনচাকে।তাঁরা কথায় কথায় বলে লইনচা মারবে। উখিয়া টেকনাফের মানুষের মুখে মুখে’ লইনচা ‘বেশ চুটিয়ে মজা দিচ্ছে।

আমাদেরতো হরহামেশাই তাঁদের বুলি নুতন আগমনী আগন্তুকের মতোই চমকাচ্ছে। রসিয়ে রসিয়ে হাসিরচ্ছলে নুতন আমদানী দ্রব্যের মতই মুখে মুখে আঁওড়াচ্ছে সাথে হাসির আবহ তুলছে আর তুলছে।

#কাকুচি#
কাকুচি ইয়ং জেনারেশনের মুখ ছোঁয়া।কথায় কথায় বলে বেড়ায়। কাকুচি মারি দিয়ূম( দিব) টিকাকে রোয়াইঙ্গা ভাষায় “কাকুচি ” বলে।

#কইল্যা চিরনী#
অ ভাই কইল্যা চিরুনী আইস্যে (এসেছে) চাটগাঁর ভাষায়’ কইল্যা’ (কলিজা)চিরনী (কাটে যে) কলিজা কাটে যে। রোয়াইঙ্গারা কিডন্যাপ’ বা ছেলেধরাকে কইল্যা চিরনী “নামে চিনে।

#চিনিবিয়ারাম#
ডাইবেটিসকে তারা বলে চিনিবিয়ারাম। রাস্তাঘাটে লোকমুখে মুখে ”চিনিবিয়ারামত পইজ্জ নিকি? (ডাইবেটিসে আক্রান্ত হয়েছ নাকি?) রসিকতা করে কক্সবাজারের অলিতে গলিতে শুনা যায়।হালকা আবহে হাসির ছলে ব্যবহারে।

#লুউমা নয়#
অতি বিশ্বাসে জোর দিয়ে বুঝানোর জন্য তারা শপথের মতো জোর কেটে অন্যকে বিশ্বাস নেয়াতে বলে “লুউমা নাই” ‘লুঊমা নয়’।
উখিয়া টেকনাফের ভাষায় রসিকতা করে বলতে বলতে হঠাৎ আসল ভাষার সাথেই মিশে বিশ্বাসে শক্তি ধরাতে অহরহ বলার শব্দ কানে বাঁজে “লুউমা নাই” লুঊমা নয়”।

#চেরেমা#
এখন কোন স্কুলের শিক্ষক দেখা মাত্রই হেঁটে চলারা রসিকতায় বলা শুরু করে ‘চেরেমা কই যায়? রোয়াইঙ্গারা মহিলা শিক্ষককে বলে ‘চেরেমা।

# বম্বি #
উখিয়া টেকনাফ এলাকায় প্যান্টপরাকে “বন্বি” ওয়ালা। বন্বিওয়ালা ডাক রসিকতার ছলে। রোয়াইঙ্গাদের কাছে প্যান্ট বন্বি নামে পরিচিত।

#দাবাইখানা#
হাসপাতাল তাঁদের কাছে দাবাইখানা নামে পরিচিত। লিকুইড জাতীয় পানি ঔষধকে তারা তাঁদের ভাষায় বলে “পানির দাবাই”।
পানির দাবাই, দাবাইখানা, কথাগুলো রসিকতায় আসল কথা বুঝাতে মানুষকে রাস্তা ঘাটে পথে প্রান্তরে আশকারার ঢং বলতে শুনা যায়।

এমন মশকারা, আশকারায়  আমরা আমাদের ভাষাটা বুঝাতে বুঝাতে আশকরা মশকারায় ভাব বিনিময়ে নুতন নুতন শব্দগুলোই আজ আমাদের রসিকতায় হয়ে আছে ভাব বিনিময়ের চৈতালী আবহ.. চৈতালী আমেজ।

লেখক:-বিভাগীয় প্রধান সমাজবিজ্ঞান বিভাগ উখিয়া কলেজ কক্সবাজার।