গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা শিবিরে ১২টি এনজিওর কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে সহায়তা করছে এমন ১২টি এনজিও (নন-গভর্মেন্টাল অর্গানাইজেশন)-এর কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে উল্লিখিত এনজিওগুলো হচ্ছে— গ্রামীণ ব্যাংক, জাগরণ, শেড (ওয়াশ), কালব, এসএআরপিজি, এমপিডিআর, টাই বিডি, লেসম, অপকা, মানবাধিকার, এসআরপিবি এবং সেলাব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সংস্থাগুলো এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন ছাড়াই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা শাখায়ও সংস্থাগুলোর রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধনহীন এসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ নিবন্ধন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

সে কারণে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে উল্লিখিত এনজিওর কার্যক্রম পরিচালনা করতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি বলে গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সুত্র: কক্সবাংলা

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের দেশের বিভিন্ন এনজিও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে নিবন্ধন নিয়ে কাজ করছে। তারা যেখানেই নিবন্ধিত হোক রোহিঙ্গা শিবিরে কার্জক্রম চালাতে গেলে সরকারের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে। সে কারণে ১২টি এনজিওর বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকেও সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লিখিত ১২টি এনজিওর মধ্যে শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের নামও রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি মূলত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সরকারের অধ্যাদেশের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া এই ব্যাংকটিতে সরকারেরও শেয়ার রয়েছে। পরিচালনা পর্ষদেও রয়েছে সরকারের প্রতিনিধি। সে কারণে ১২ এনজিওর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের শেয়ারধারী একটি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়টি আমাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। খুব শিগগিরই একটি প্রতিবেদন পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

এনজিওগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা প্রশাসক জানান, এদের বেশির ভাগই স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করছে।

রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় এসব কাজ করা হলেও কেন এনজিওগুলোর কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে আলী হোসেন বলেন, যারাই কাজ করুক, তাদের সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে নিবন্ধন এবং অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া সরকার যেভাবে চাইছে, হয়তো তারা সেভাবে কাজ করছে না।