রোহিঙ্গা-শিবিরে উদ্বাস্তুদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

নিউজ ডেস্ক::
ফারজিয়া বেগম জানেন না তার বয়স কতো। তবে ১৭ বছর হতে পারে বলে তার অনুমান। মিয়ানমারে মা ও শিশু ভাইকে গুলি করে মেরেছে সরকারি সেনারা।জঙ্গল ও পাহাড়ের মধ্য দিয়ে, বেশ কয়েকটি নদী ও উপ-নদী পারি দিয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তখন তার সঙ্গে পিতা ও আরো পাঁচ ভাইবোন ছিলো।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনী যে গণহত্যা চালায় তা থেকে বাঁচতে আরো হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ফারজিয়ার পরিবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

শুধু ২০১৭ সালেই ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে যে উদ্বাস্তু স্রোত তৈরি হয় তা এসে থিতু হয় মূলত কক্সবাজার জেলার দুটি উদ্বাস্তু শিবির কুতুপালং ও নয়াপাড়ায়। এখানেই ফারজিয়ার বিয়ে হয়, একটি বাচ্চাও হয়েছে। পাশাপাশি অন্য পাঁচ ভাইবোনেরও দেখভাল করে সে।

বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা জনসংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে (পরিবার সংখ্যা ২২২,৮৫২), যা দেশটিকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ উদ্বাস্তু আশ্রয়দাতা দেশে পরিণত করেছে। এই মেগা শিবিরটি ৩৪টি ইউনিটি বিভক্ত।

১৭ নং ইউনিটে অবস্থিত সমন্বয় অফিসের মাধ্যমে এর ব্যবস্থাপনা করা হয়। বাংলাদেশের রিফিউজি রিলিফ এন্ড রিপ্যাট্রিয়েশন কমিশন (আরআরআরসি) এটি পরিচালনা করে।

এই কমিশন ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে মানবিক সাড়াদান সমন্বয় করে।

শিবিরগুলোতে উদ্বাস্তুরা সংগ্রাম করছে। ৬,২০০ একর জমিতে ছড়িয়ে আছে ৩৪টি ইউনিট। প্রতিটি ইউনিটে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষের বাস। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশংকা না থাকলেও তারা অন্ধকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আতংকিত।

প্রতিটি শিশুর চেহারায় অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট। তারা যেন বড়দের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব উদ্বাস্তু খুবই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। তারা শিবির ছেড়ে যতে পারে না।

অন্যদিকে, মিয়ানমার সরকার তার নীতি পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এসব উদ্বাস্তু নিজ দেশেও ফিরতে পারবে না। আর মিয়ানমারের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা বলতে গেলে নেই।- গালফ নিউজ

ad