রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বসছে টেলিটক বুথ

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রতিটি ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, টেলিটক মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণভাবে কথা বলতে পারবেন রোহিঙ্গারা।রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে মোবাইল সিম বিক্রি, নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি সম্পর্কে শনিবার বিটিআরসি কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণে যাতে ব্যত্যয় না ঘটে সেজন্য টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগামী তিন দিনের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বুথ বসানো হবে। সেখানে টেলিটক সিমের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে স্বল্প মূল্যে কথা বলতে পারবেন রোহিঙ্গারা।’

গত ১ জুলাই থেকে অন্য অপারেটরের মাধ্যমে যে সকল সিমের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা কথা বলছেন তা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে যে সকল সিম ব্যবহার হয়েছে সেগুলো শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মূলত যে সকল সিম রোহিঙ্গারা ব্যবহার করছেন, সেগুলো বায়োমেট্রিক করা। আমাদের দেশের লোকেরা বেশি দামে রোহিঙ্গাদের হাতে নিজেদের সিম তুলে দিচ্ছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

‘এসব সিম দিয়ে কোনো ধরনের অপরাধ সংগঠিত হলে সিমের মূল মালিক শাস্তির আওতায় আসবেন,’ হুঁশিয়ার করেন তারানা হালিম।

তিনি আরো বলেন, ‘টেলিটক ছাড়া অন্য যে সকল অপারেটরের সিম রোহিঙ্গারা ব্যবহার করছেন তা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের ভিত্তিতে তাদের হাতে সিম দেওয়া হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত তাদের হাতে কোনো ধরনের সিম দেওয়া হবে না। তারা টেলিটকের বুথের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথা বলবেন।’

ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের অত্যাচারের ছবি ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে কিছু ছবি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা ফেসবুককে অনুরোধ করেছি তারা নিজেরাও কিছু ছবি সরিয়ে দিয়েছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।