রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার

ডেস্ক রিপোর্ট::
মিয়ানমার নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রত্যাবাসনের জন্য কক্সবাজার ক্যাম্পেগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এরই মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৪ তে আশ্রয় নেয়া জানি নামের এক যুবক বলেন, গত দুয়েকদিনের চেয়ে নিরাপত্তা দ্বিগুণ বেড়েছে। ফলে সবার মধ্যে একধরণের ভয়ভীতি কাজ করছে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পের প্রত্যাকটি প্রবেশ পথে চেক পোস্ট ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অনেকেই এই ভয়ে পালিয়ে গিয়ে দিনরাত বনে বা অন্য কোন ক্যাম্পে কাটাচ্ছে।

জামতলী শিবিরে আশ্রয় নেয়া কাদের বলেন, অনেক পরিবার আছে যাদের মিয়ানমারের কাছে প্রত্যাবসনের জন্য পাঠানো তালিকায় তাদের নাম নেই।তারা এখনো পালানোর চেষ্টা করছে।

রোহিঙ্গা নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৫০টি পরিবার আত্মগোপনে রয়েছে। তারা বার্মায় ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে।

কাদের বলেন, ‘জামতলী ও হাকিমপাড়া ক্যাম্পে প্রতিটি কর্নারে সেনা পাহারা বসানো হয়েছে। এর ফলে এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কিছু রোহিঙ্গা গোপন পথে আমাদের ব্লক থেকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে কারণ সেখানে প্রত্যাবাসন নিয়ে তেমন কোন ভয়ভীতি এখনো তৈরি হয়নি।’

ad

কয়েকজন রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গার্ডিয়ান জানায়, মিয়ানমার সরকার প্রাথমিকভাবে যে দুই হাজার দুই শত রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে সেই তালিকায় থাকা অনেক পরিবারই এ অবস্থায় দেশটিতে ফিরতে রাজি নয়।

অনেকেই ক্যাম্প থেকে পালাতে শুরু করেছে।এ অবস্থায় মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া হবে খুব ঝুকিঁপূর্ণ এবং অনেকই ফেরত না যেতে আত্মহত্যার মত পথ বেছে নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার মাইকেল বাচালেট বলেন, এই ধরণের সন্ত্রাসী ও ভয়ংকর কর্মকাণ্ডের ফলে রোহিঙ্গা খুব ঝুঁকিতে থাকায় তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না।

এই সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে রোহিঙ্গা বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি মিয়ানমারের কাউন্সিলর অং সাং সুচি।

ওই অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সুচিকে রোহিঙ্গা ক্রাইসি বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সুচি বলেন, আমরা আমাদের দেশ নিয়ে অন্য যে কোন দেশের চেয়ে ভালো বুঝি।

তবে ওই সম্মেলনে অংশ নেয়া মালেশিয়ার পক্ষ থেকে মাহাথির মোহাম্মদ রোহিঙ্গা ক্রাইসিস নিয়ে কথা বলেন।

২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে চালানো মিয়ানমার সরকারের অত্যাচারে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা এই সব রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের উপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে জাতিসংঘ গণহত্যা বলে দাবি করেছে। চ্যানেল আই