রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে আরও একটি তালিকা দেবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রস্তুতি নিতে তিন দিনের সফরে আগামী ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশে আসছে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় দু’দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আরও একটি তালিকা হস্তান্তর করবে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। মূলত রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত উভয় দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের নীতিনির্ধারণী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেবেন। বৈঠকে অংশ নেয়ার পাশাপাশি কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন তারা। আগামী ৩০ অক্টোবর ফিরে যাবে প্রতিনিধি দলটি।

এর আগে গত মে মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিল মিয়ানমারের এই প্রতিনিধি দল। সে সময়ও প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে।

মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে অনুকূল করার বিষয়ে আলোচনা করতেই মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসছে। পাশাপাশি প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে তার বিষয়ে বিস্তারিত বুঝাবেন।

এসব কারণেই এবারের সফর অন্য সকল সফরের থেকে ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, দলটির ঢাকা সফরের আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করে। সে সময় তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আবাসন সুবিধা, চলাফেরা ও জীবনযাত্রাসহ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সুচির সঙ্গে বৈঠকে করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেয়ার পর, দেশটির প্রতিনিধি দলের এবার ঢাকা সফরের পালা। যদিও বাংলাদেশ এর আগে প্রত্যাবাসনের আওতায় রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা দেশটিকে হস্তান্তর করলেও ওই তালিকা থেকে এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার।