রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা ও অন্যান্য মানবিক সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে।

বরাদ্দ চেয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে অর্থ সচিবের লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় নেওয়ায় সেখানে খাবার পানি ও সেনিটেশন ব্যবস্থায় চরম অবনতি ঘটায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিপর্যয় রোধ এবং অতি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক আশ্রয় ক্যাম্পগুলোতে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বরাদ্দের অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আশ্রয় ক্যাম্পগুলোতে ১ হাজার গভীর নলকূপ বসাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। মহিলাদের জন্য ৪০০টি গোসলখানা স্থাপনে ব্যয় হবে দুই কোটি টাকা, মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট/মোবাইল ওয়াটার ক্যারিয়ার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ব্যয় হবে ৫০ লাখ টাকা, ব্লিচিং পাউডার (প্রতিটি ৫০ কেজির ড্রাম) ৫০০ ড্রামের দাম পড়বে ২০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ৩০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মিয়ানমার থেকে আগত আশ্রয় প্রার্থীদের মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত সমন্বয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থার জন্য ইতোপূর্বে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়। সে সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নয় কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে আরো ১৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

বর্তমান প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওইসব আশ্রয় ক্যাম্পে ২১২৯টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৩৬টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করে এতে এক ধরনের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে যা ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া আসন্ন শুষ্ক মওসুমে ভূগর্ভে পানির স্থিতিতল নিচে নেমে গেলে অগভীর নলকূপের পানি না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে আশ্রিতদের মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপন এবং মহিলাদের গোসলখানা নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুকূলে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

রাইজিংবিডি