রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থান

বিশেষ প্রতিনিধি::
নাফ নদ পেরিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। মিয়ানমারে ফের অস্থিতিশীলতার কারণে এ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানান টেকনাফ বিজিবির ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আছাদুদ-জ্জামান চৌধুরী।

বিজিবির কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ও মাদক ঠেকাতে সীমান্তে রাত-দিন টহল দিচ্ছেন বিজিবির সদস্যরা। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছি আমরা।’

বিজিবি জানায়, টেকনাফ উপজেলা সীমান্তের হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালী, হ্নীলা, লেদা, নয়াপাড়া, দমদমিয়া, টেকনাফ সদর, নাজিরপাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মৎস্যজীবীদের নাফ নদে মাছ ধরা ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতলব বলেন, নতুন করে মিয়ানমারে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা রোহিঙ্গাদের ওপর প্রভাব পড়লে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে উখিয়া প্রতিনিধি জানান, গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বোচিডং চিন্দিফ্রাং থেকে সাত সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার পালিয়ে এসে কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে কুমিল্লা হয়ে দুই দফায় ৯৩ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুতুপালং ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিম।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারে সেনাবাহিনীদের অভিযানের মুখে পড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে আসে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা শিবিরের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তার মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশু।

ad