রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছে: অ্যামনেস্টি

নিউজ ডেস্ক,
বৃহস্পতিবার হেগভিত্তিক আইসিসির তিন বিচারকের প্যানেলের এক লিখিত আদেশে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্যে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচারের এখতিয়ার এই আদালতের রয়েছে। কেননা এই ঘটনায় সংঘটিত অপরাধ সীমান্ত পেরিয়ে সদস্য দেশ বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়েছে।

এই আদেশের ফলে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক এই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদার মামলা করার পথ খুলল।

লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়ে ফাতোও বেনসুদা গত এপ্রিলে আবেদন করেছিলেন।

আইসিসির এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “মিয়ানমার সেনাবাহিনী ভয়াবহ জাতিগত নিধন শুরুর পর সাত লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত (মিয়ানমারের বিচার) নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথকে পরিষ্কার করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে যে জবাবদিহি করতে হবে, সে ব্যাপারে একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে আদালত।”

বিরাজ আরও বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ ঘটানো হয়েছে তার একটি হচ্ছে তাদেরকে দেশত্যাগে বাধ্য করা। রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে কিভাবে সেনা অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অনাহারে থাকতে বাধ্য করার পাশাপাশি গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া এবং স্থলমাইন ব্যবহার করা হয়েছে তার ব্যাপক তথ্যপ্রমাণ অ্যামনেস্টি সংগ্রহ করেছে।”

আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব যে এখনো ফুরিয়ে যায়নি তাও স্মরণ করিয়ে দেন বিরাজ পাটনায়েক।

“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একে (আইসিসির সিদ্ধান্ত) নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত মিয়ানমারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আইসিসিকে জানানো, যাতে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কাচিন এবং শান রাজ্যে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, সেসবের অনুসন্ধান করতে পারে।”

গতবছর অগাস্টে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আসছে জাতিসংঘ।

এক মাস আগে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন তাদের প্রতিবেদনে বলে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। এজন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও পাঁচজন জেনারেলের বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ।