রোহিঙ্গাদের নিয়ে যা বললেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ

ডেস্ক রিপোর্ট ::
রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার করেছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। এ লক্ষ্যে বার্মিজ ভাষায় কনটেন্ট পর্যালোচনায় সক্ষম অধিক সংখ্যক ব্যক্তিদের নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ঘৃণা ছড়ানো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের ‘ব্যান’ করতে নাগরিক সমাজের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের কমার্স এবং জুডিশিয়ারি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে এক ম্যারাথন শুনানিতে জাকারবার্গের কাছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ফেসবুকের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

জাকারবার্গের কাছে মিয়ানমারের গণহত্যাকে উস্কে দেওয়ার জন্য ফেসবুকের ভূমিকাকে দোষারোপ করে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন ভারমন্টের সিনেটর প্যাট্রিক জে লেয়াহি। ২০১৬ সালে ফেসবুকে এক বার্মিজ সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও আলোকপাত করেন এই সিনেটর।

প্যাট্রিক জে লেয়াহি বলেন, আপনার শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মধ্যেও এই হুমকি ছড়িয়ে পড়েছিল। এটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর এ নিয়ে একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফেসবুক থেকে এটি সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানাতে নাগরিক সমাজও এ ঘটনায় যুক্ত হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন এটি সরিয়ে ফেলা হয়নি?

মিয়ানমারের সহিংসতাকে ‘ভয়ানক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন জাকারবার্গ। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সেজন্য তার কোম্পানি সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ঘৃণাত্মক বক্তব্যের সঙ্গে ভাষার বিষয়টি জড়িত রয়েছে। ফলে ফেসবুক বার্মিজ ভাষায় পারদর্শী আরও কয়েক ডজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিচ্ছে যারা কনটেন্ট পর্যালোচনায় সক্ষম।

মার্ক জাকারবার্গ বলেন, স্থানীয় ভাষায় পারদর্শী ব্যক্তিদের ছাড়া এসব কিছু পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। এ ব্যাপারে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করছি।

তিনি বলেন, ঘৃণা ছড়ানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে মিয়ানমারের নাগরিক সমাজের সঙ্গে কাজ করছে ফেসবুক। এটা এজন্য করা হচ্ছে যেন, নির্দিষ্ট কিছু কন্টেটের বদলে বরং বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টই বন্ধ করে দেওয়া যায়।

জাকারাবার্গ বলেন, মিয়ানমার এবং অন্যান্য যেসব দেশে এ ধরনের ইস্যু রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এমন কিছু যেন না ঘটে সেজন্য ফেসবুকের একটি টিম সজাগ রয়েছে।

এর আগে গত সোমবার মিয়ানমারের ছয়টি এনজিও’র একটি দল মন্তব্য করে, দেশটিতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে ফেসবুকের ব্যবস্থাপনা ‘একেবারেই অপর্যাপ্ত’ ছিল।

ফেসবুকের মাধ্যমে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ অনেক পুরনো। দেশটিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের জাতিগত নিধনযজ্ঞে ফেসবুকের ভয়াবহ ভূমিকা শনাক্ত করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্ত দল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাবিদ্বেষী প্রচারণার মধ্য দিয়েই সেখানে নিধনযজ্ঞ পরিচালনার পাটাতন সৃষ্টি করা হয়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, ওই প্রচারণার কাজে ফেসবুকই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

মিয়ানমারের জাতিসংঘের তদন্তকারী ইয়াংহি লি জানান, মিয়ানমারে ফেসবুক সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত জীবনের বিশাল অংশ। সরকার জনগণের মধ্যে তথ্য প্রচার করার জন্য এটা ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ‘ফেসবুক সরকারি বার্তা সরবরাহ করতো কিন্তু আমরা জানি কট্টর বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদেরও নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তারা রোহিঙ্গা অথবা অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই প্রচুর সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়িয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, ফেসবুক এখন একটি জন্তুতে পরিণত হচ্ছে। এটি তার আসল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।

এদিকে মঙ্গলবার সিনেট কমার্স এবং জুডিশিয়ারি কমিটির সামনে সাক্ষ্য প্রদান শেষে বুধবার হাউস এনার্জি এবং কমার্স কমিটির যৌথ শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে জাকারবার্গের।