রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে ১৫শ’ ঘর নির্মাণ করছে মিয়ানমার

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রত্যাবর্তিত রোহিঙ্গাদের পুর্ণবাসনের জন্য উত্তর রাখাইনে নির্মাণ করা হচ্ছে ১৫শ ঘর। এসব ঘর নির্মাণে মিয়ানমার সরকার, রাজ্য ও আঞ্চলিক সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারী সংস্থা এবং ভারত সরকার অর্থায়ন করছে বলে রাখাইনের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য উভয় দেশ ব্যাপক তোড়জোর শুরু করেছে।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ন্যু পু এর সংবাদ সম্মেলনের উদ্বৃতি দিয়ে গতকাল সোমবার মিয়ানমার টাইমস জানিয়েছে উপরোক্ত সংস্থা গুলো অর্থ সহায়তায় ইতিমধ্যে উত্তর রাখাইনে ৫শ আশ্রয় স্থল বা ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্নভাবে ফেরত আসা ১৭৭জন উদ্বাস্তু মুসলিমদের এসব আশ্রয় স্থলে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ৭৭৩টি আশ্রয় স্থল বা ঘর নির্মাণ করার কাজ চলমান রয়েছে এবং আরো ২৫০টি আশ্রয় স্থল নির্মাণে অর্থ সহায়তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এ ২৫০টি ঘর নির্মাণে ভারত সরকার অর্থ সহায়তা প্রদান করতে সম্মত হয়েছে।
ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা ও পুনঃবাসন প্রকল্প উপদেষ্টা থ অং বলেন, সরকার আশা করছে বাংলাদেশের সঙ্গে গত বছরের নভেম্বরে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় শ্রীঘ্রই বাংলাদেশের আশ্রয় শিবির থেকে উদ্বাস্তু মুসলমানদের প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শুরু করা হবে। মিয়ানমার দ্রুত এ কাজ আরম্ভ করার লক্ষ্যে এগুচ্ছে বলে তিনি জানান। সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনঃবাসন মন্ত্রনালয়ের মহা পরিচালক কো কো নাইং বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে ঢাকায় উভয় দেশের গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত বৈঠকে উদ্বাস্তুদের প্রত্যার্পনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হতে পারে বলে তিনি আশা করেছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত শনিবার বলেছেন বাংলাদেশ আশা করছে মিয়ানমার কর্তৃক যাচাইকৃত ৮হাজার উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাকে শ্রীঘ্রই তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাং তুন বলেছেন, বাংলাদেশের আশ্রয় শিবির থেকে কোন উদ্বাস্তু এ পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী স্বেচ্ছায় ফিরে আসার আবেদন করেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মতে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রত্যার্পনের জন্য দেয়া ৮হাজারের বেশী উদ্বাস্তুর মধ্যে ৫ হাজারের বেশী উদ্বাস্তু মুসলিমদের রাখাইনে নাগরিক হিসেবে যাচাই করা হয়েছে। আগামী যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে বৈঠকে তাদের প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি লক্ষনীয় হবে বলে তাদের দাবি।