রামু থানার ওসি লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক::
ইয়াবা চোরাচালানের একটি মামলা কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। পুলিশ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
‘ইয়াবা কারবারির পাশে ডিআইজি’ শিরোনামে গতকাল সোমবার দৈনিক আমাদের সময়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি

প্রকাশ হওয়ার দিনই উল্টো প্রত্যাহার করা হয় ওসিকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় ওসি লিয়াকতকে পুরস্কৃত করার কথা। অথচ তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে থানা থেকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর রামু থানা পুলিশ ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ একটি প্রাইভেটকার ও তার চালক দ্বীন ইসলামকে আটক করে। প্রাইভেটকারের অপর দুই আরোহী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে রামু থানাপুলিশ গাড়িচালক দ্বীন ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আটকের পর চালকের মোবাইল ফোনের একটি এসএমএস ও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রামু থানার এসআই ফজলুল করিম বাদী হয়ে দ্বীন ইসলাম, ইয়াবা কারবারি হিসেবে জিএম ছারোয়ার, কামরুল ইসলাম লিংকন ও শাহিদ উদ্দিনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওসি লিয়াকত আলীর অভিযোগÑ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক) এসএম মনির-উজ-জামানের নির্দেশে গাড়িচালক ছাড়া মামলার অপর তিন আসামির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে উল্টো ওসির বিরুদ্ধে মাদক কারবারি জিএম ছারোয়ার অভিযোগ আনেন, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। এরপর ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার।
জবাবে ওসি লিয়াকত কারণ দর্শানোর দুটি আলাদা প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি বরাবর পাঠান। তাতে ওসির ভাষ্য ছিলÑ আইনগত সুযোগ না থাকলেও ডিআইজির নির্দেশে এজাহারনামীয় আসামি জিএম ছারোয়ারকে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে হয়।
আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে জিএম ছারোয়ারসহ তিন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত মামলার বাদী এসআই ফজলুল করিম ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল পারভেজকে থানার বদলে কক্সবাজারের হোটেল কক্স টুডেতে মামলার ডকেটসহ ডেকে পাঠান। তবে ডিআইজি হোটেলে না গিয়ে কেস ডকেট পর্যালোচনার জন্য তার অধীন দুই কর্মকর্তাকে ওই হোটেলে পাঠান। দুই পুলিশ কর্মকর্তা কেস ডকেট পর্যালোচনা করে আইনগত সুযোগ না থাকলেও ডিআইজির নির্দেশে এজাহারনামীয় আসামি জিএম ছারোয়ারকে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে বলেন।
এমনকি পলাতক আসামি জিএম ছারোয়ার তার ফেসবুক আইডিতে ডিআইজির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বোঝানোর জন্য ডিআইজির সঙ্গে তোলা বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন। আবার ডিআইজির নির্দেশে ওসির বিরুদ্ধে যে তদন্ত শুরু হয় তাতে ওসির বক্তব্য নেওয়া হয়নি। বরং ডিআইজি মনিরুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে ওসি লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন পাঠান।