“রঙিন আওয়ামী লীগের বিবর্ণ নেতা কর্মী”

রাশেদুল ইসলাম
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোতাহের হোসেন রানার মলিন চেহারা আর কাপড় দেখে সবাই মায়াকান্না করছেন। যেন একদম নতুন কিছু দেখেছেন। আপনার আমার বাড়ির আশেপাশে এই রকম শত শত মোতাহের হোসেন রানা আছে তাদের খবর কী কেউ রাখি?

সারাদেশের খবর আমি জানিনা। আমি আমার ছোট্ট কক্সবাজার জেলা নিয়েই গোটা দেশটাকে দেখি।আমি আমার সময়ের কথা বলছি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন হতে আমার দেখা সময়টার কথা বলছি।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের দুইজন সার্বক্ষণিক কেয়ার টেকার বা নিবেদিত প্রান কর্মী একজন নূরুল হক ,অপরজন মকতুল হোসেন অভাবে কষ্টে দুই জনই মারা গেছেন।জামাত বিএনপির হাতে অনেক নির্যাতনও সয়েছেন। তাদের পরিবারের খবর আমরা কেউ রাখি? অফিসে আর একজন বোবা লোক থাকতো। অফিসের সামনে প্লাস্টিক ঝালাইয়ের কাজ করত।আওয়ামীলীগ অফিসের চাবিও থাকতো তার কাছে।বোবা হলেও আওয়ামী লীগ অন্ত প্রাণ ছিলেন। সেও শিবিরের নির্যাতনের হাত হতে রেহাই পায়নি।তার খবর কি আমরা কেউ জানি? রামুর মোহাম্মদ হোসেন ( মাসন) সেও এই আওয়ামী লীগ অফিস ও দলের জন্য অনেক শ্রম দিয়েছে মিছিল মিটিং এ থাকতো সবসময়। আজ অর্থ কষ্টে চিকিৎসা পাচ্ছেনা ঠিকমমতো, হাঁটা চলা করতে পারেনা।তাদের খবর আমরা কেউ কী রাখি?

সাধারণের কি খবর নিবেন? জেলা আওয়ামীলীগের কোন নেতা অসুস্থ হলে মারা গেলে তাদের খবর নেওয়ার সময়ই বা কই আমাদের নেতাদের কাছে।তবে জানাজার নামাজে বক্তৃতা দিতে বলতে হয়না,প্রায় প্রতিটি জানাজায় নেতাদের অতি বক্তৃতায় সাধারণ মানুষ যার পর নাই বিরক্ত।

আাছিফ কামাল চৌধুরী, নূরুল মাসুদ মানিক,শমশের আলম চৌধুরী, এডভোকেট আহাম্মেদ হোসেন, এডভোকেট আমজাদ হোসেন, কাজি তোফায়েল, জহিরুল ইসলাম চেয়ারম্যান, এডভোকেট শাহাবুদ্দিন আহমেদ,টিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান, মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান, আলমগীর চৌধুরী হিরু,সাজ্জাদ জহির সহ অসংখ্য নেতাকে আমরা হারিয়েছি।জেলা আওয়ামীলীগকে একটি স্মরণ সভা করতে দেখলাম না কখনও।

মাত্র কয়দিন আগে এডভোকেট আহাম্মেদ হোসেন মামার স্মরণ সভা হলো। সেই সভা করতে এক বছর লাগলো। এডভোকেট শাহাব উদ্দীন স্মরণ সভা হয়েছে, তার সন্তান মাহামুদুল করিম মাদু তা আয়োজনের ব্যবস্থা করেন। নাহলে হতো কিনা সন্দেহ।

শমশের আলম চৌধুরী, এডভোকেট আমজাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান কনটাক্টার,মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান, জহিরুল ইসলাম চেয়ারম্যান, কাজি তোফায়েল আহমেদ,দীপক চক্রবর্তী, বাবু অরুন ভট্টাচার্য, ভূলু দাশ সহ কত সহস্র নেতার শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ।আমরা কী তাদের কখনো স্মরণ করি?

আসিফ কামাল চৌধুরী, নুরুল মাসুদ মানিক,আলমগীর চৌধুরী হিরু, সাজ্জাদ জহিরদের অবদান কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের আজকের অনেকেই জানেনা।

এই আওয়ামী লীগের জন্য জীবন দিয়েছে শহীদ দৌলত খান।আজ তার ভাই সাধারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হতে পারেনা,হাইব্রিডের ভীড়ে।সুজন বড়ুয়া বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন।তার গোটা পরিবার বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হন বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে।সুজন বড়ুয়ার খুনিদের আশ্রয় দেওয়া হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগে। আজ পর্যন্ত এই মামলার কোন সুরাহা হয়নি।এই এগারো বৎসরে কেউ তাদের খোঁজ নিয়েছেন? উল্টো নিগৃহীত হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা।

সিটি কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী মোহাম্মদ নূর শিবির সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হন। না পেয়েছে বিচার, না পেয়েছে সম্মান অথবা কোন রকমের সহযোগিতা।

পেকুয়ার ফরিদ মেম্বার বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে চরম নির্যাতিত নেতা।জেল খেটেছেন দীর্ঘ দিন। অর্থ কষ্টে মৃত্যুর আগে ভালোভাবে চিকিৎসা নিতে পারেননি। অথচ ছাত্রলীগ – আওয়ামীলীগ করে সারা জীবন শেষ করে দিয়েছেন।

ওমর ফারুক বাবুল মগনামা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,যুবলীগ করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।শিক্ষকতা করতেন, মরনব্যাধী ক্যান্সারে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি ও প্রয়োজনমত চিকিৎসা পাননি।তার ছোট ছোট বাচ্চারা আজ অসহায়।রাষ্ট্রের কোন সাহায্য কী তার পরিবার পর্যন্ত যায়?

ঈদগাঁওর রাশেদ উদ্দিন বাবর,টেকনাফের একরামের কথা নাইবা বললাম।

মানিক বৈরাগী চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনশন করেন। আর সুস্থ অনেক মানুষ প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর অনুদান নিচ্ছেন ভুল তথ্য দিয়ে।
এই রকম নাম না জানা হাজারো নেতা কর্মী কষ্ট পাচ্ছে তাদের খবর কেউ রাখেনা।

গত এগারো বৎসরে কয়জন তৃণমূলের কর্মীর মূল্যায়ন হয়েছে?কাকে একটি কাজ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নেতারা? টাকা ছাড়া কোন কর্মীকে একটি চাকরি দিয়েছেন? সাধারণ সমুদ্র পাড়ের কিটকট ছাতা,ঝুপড়ি দোকান গুলোও নিয়েছেন নেতা আর আমলারা,কর্মীদের স্থান কোথায়?শুধু জেলা উপজেলার নেতাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই, পচন তো ধরেছে মাথায়।কয়জন কেন্দ্রীয় নেতার সাথে নেতা কর্মীরা কথা বলতে পারেন? কথা বললেও কোন সুরাহা হয় না বা করেন না।সবার আছে নিজস্ব সিন্ডিকেট। ত্যাগী নেতা সেতো বক্তৃতার ভাষায় ব্যবহারের জিনিস।

এ যেন রংএর দুনিয়া। নতুন আসা হাইব্রিডদের নিয়ে সবাই মশগুল। হাইব্রিডদের অবৈধ অর্থে নেতারা হুঁশ হারিয়ে ফেলেছেন। সকালে যোগ দিয়ে বিকালে সভাপতি হওয়া যায়। ইয়াবা,বিএনপি- জামাত, যুদ্ধাপরাধীর সন্তান কিছুই সমস্যা না কক্সবাজারে।

এ যেন বার্মার পাশে আর এক মগের মুল্লুক।

লেখক:
প্রধান সম্পাদক, দৈনিক দৈনন্দিন ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।

লেখাটি রাশেদুল ইসলামের ফেইসবুক ওয়াল থেকে
সংগৃহীত

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন