যেভাবে পাসপোর্ট পায় রোহিঙ্গারা

ডেস্ক রিপোর্ট::
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করছে ইউরোপীয় রোহিঙ্গা কাউন্সিল (ইআরসি) নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। শুধু তারা পাসপোর্ট পেতে সহায়তা নয়, পাসপোর্ট তৈরির টাকা, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তাদের দেশের বাইরে যেতেও যাবতীয় সহায়তা করছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ গ্রেফতার হওয়া মিয়ানমারের নাগরিক মোহাম্মদ ইউসুফের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শফিউদ্দিনের আদালতে জবানবন্দি দেন মোহাম্মদ ইউসুফ।

ইউসুফ মিয়ানমারের মংডু জেলার আলী আহমদের ছেলে। ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর সিটি গেট এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ মুছা ও মোহাম্মদ আজিজ। তাদের গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে তুরস্কের ভিসা আনতে ঢাকায় যাওয়ার পথে গ্রেফতার হন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এ মামলা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। এরই মধ্যে মোহাম্মদ ইউসুফ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। ’ ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শফিউদ্দিনের আদালতে জবানবন্দি দেন ইউসুফ। তার দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি পুরোটাই ইংরেজিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। ওই জবানবন্দিতে ইউসুফ পাসপোর্ট পাওয়ার যাবতীয় ঘটনা পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরেন। জবানবন্দিতে ইউসুফ বলেন, ‘২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর আমি, আমার ভাই মুছা এবং চাচাতো ভাই আজিজ চট্টগ্রাম আসি
চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এসে পারভেজকে ফোন দিই। অতঃপর রিয়াজউদ্দিন বাজারে এসে পারভেজের সঙ্গে দেখা করি। তিনি ফেনী যেতে আমাদের বাসের টিকিট কেটে দেন। এরপর ফেনী গিয়ে সাবের নামে একজনের সঙ্গে দেখা করি। ওখানে রাত যাপন করি। পরদিন নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট আবেদনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদন করি। এ সময় পাসপোর্ট অফিসে কেউ আমাদের কোনো প্রশ্ন করেননি। ১৭ থেকে ১৮ দিন পর ওই জায়গায় গিয়ে আবার পাসপোর্ট সংগ্রহ করি। টাকা ছাড়া আমরা পাসপোর্ট পাইনি। পাসপোর্টের যাবতীয় খরচ ইআরসি প্রদান করে। আমার জানামতে, প্রতি পাসপোর্টের জন্য এরশাদকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এরপর তুর্কি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করি। উখিয়ার স্থানীয় একটি কম্পিউটার দোকানে গিয়ে স্কাইপির মাধ্যমে ইন্টারভিউ দিই। ২০১৯ সালে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করি। ২০১৯ সালে তুর্কি ভিসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। পথে আমরা সিটি গেট এলাকায় গ্রেফতার হই। ’ জবানবন্দিতে মোহাম্মদ ইউসুফ আরও উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে সপরিবারে তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে আসার পর থেকে পাঁচ ভাই ও এক বোনসহ পরিবারের সবাই রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে তিনি ‘বিডিআরসিএ’ নামে একটা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এ সময় ‘আরএস’ নামে এক তুর্কি নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ সময় তার বাবা আলী আহমদের সঙ্গেও ওই তুর্কি নাগরিকের সম্পর্ক হয়। তিনি তাদের সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন। তখন তিনি তাদের একটি ই-মেইল ঠিকানা দেন। পরে তারা জানতে পারেন, এটি ‘ইআরসি’র ই-মেইল আইডি। তখন ইউসুফ তাদের কাছে মেইল করেন। তখন তারা তাকে জানান, পাসপোর্ট ছাড়া তাকে সাহায্য করা সম্ভব নয়। তারপর তারা এরশাদ নামে তাদের বাংলাদেশি প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর দেন। তখন তার সঙ্গে ইউসুফ মোবাইলে যোগাযোগ করেন। এরশাদ তার ভাই মোহাম্মদ মুছা ও মোহাম্মদ আজিজসহ ইউসুফকে চট্টগ্রামে আসতে বলেন। একই সময় তাকে পারভেজ নামে একজনের নম্বর দেন এরশাদ। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া কারও পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়। এ পাসপোর্ট পাওয়ার পেছনে সব দায় পুলিশের। ’ সুত্র বিডি প্রতিদিন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন