মেজর সিনহা হত্যা, চার আসামীর ১০ দিনের রিমান্ড চায় র‌্যাব

ইমাম খাইর:
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কারান্তরীণ চার আসামীর ১০ দিনের রিমান্ড চায় র‌্যাব।

আসামীরা হলেন- কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া।

এ দাবীকে আজকেই কক্সবাজার আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

তিনি বলেন, চার আসামীকে আমরা বিগত দুইদিনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেই তথ্যের আলোকে তাদেরকে সোমবার ১০দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করছি। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া বাকি তিন আসামীকে পর্যায়ক্রমে আমরা রিমান্ডে আনব। তবে, আজকেই তাদেরকে রিমান্ডে আনছি না। আরো একটু যাচাই বাছাই করছি।

দ্বিতীয় দিনের মতো রোববার (০৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা কারাগারের ফটকে চার আসামী কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়াকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেন র‌্যাবের তদন্ত দল।

মেজর সিনহা হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে তারা কক্সবাজার জেলা কারাগারে। ওই দিন তারা চারজনকে দুদিন করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেয় আদালত।

এছাড়া ঘটনার অন্যতম আসামী টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিতের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তাদের রিমান্ড এখনো শুরু হয় নি।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ জন ৬ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠান।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডে টেকনাফের বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরিদর্শক লিয়াকত আলী, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
৬ আগস্ট বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপসহ সাত আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলার শুনানিতে র‌্যাবের পক্ষে প্রত্যেক আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত লিয়াকত, প্রদীপ ও নন্দ দুলাল রক্ষিতকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাকি চারজনকে দুই দিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে র‌্যাবকে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তারা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিবে।
ঘটনা তদন্তে গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।
৪ আগষ্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন