মুমিনুলের বোলিং-চমকের পর ব্যাটিংয়ে ধাক্কা

মোস্তাফিজুর রহমানে ভর করে চতুর্থ দিনে চমৎকার শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আমলাকে তুলে নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু পচেফস্ট্রুম টেস্টে আজ বাংলাদেশের সেরা বোলার মুমিনুল হক! বাংলাদেশের তুলে নেওয়া ৬ উইকেটের মধ্যে তিনটি মুমিনুলের। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ৪২৪ রানের, টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে এত রান করে কেউ জেতেনি এখনো।

ড্র করতে হলেও কমপক্ষে ১৪০ ওভার ব্যাটিং করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে কাঁপছে বাংলাদেশ। মরনে মরকেলের জোড়া আঘাত প্রথম ওভারেই। তামিম ইকবাল ফিরেছেন ইনিংসের চতুর্থ বলে, দুই বল পর মুমিনুলও! রানের ঘর ফাঁকা থাকতেই দুই উইকেটের পতন। মুমিনুল অবশ্য রিভিউ নিলে বেঁচে যেতেন। নেননি। তবে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়েছে মরকেলের পরের ওভারে। বোল্ড হয়ে গেলেও নো বল হওয়া বেঁচে গেছেন মুশফিক। এই টেস্টে তিনবার জীবন পাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে বড় একটি ইনিংস তাই পাওনা হয়ে গেল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪৯/৩। তামিম ও মুমিনুলের পর ফিরে গেছেন ইমরুল কায়েস (৩২)। তাঁকে কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসবন্দী করেন কেশব মহারাজ। হাতে ৭ উইকেট রেখে জয় থেকে এখনো ৩৭৫ রানের বিশাল দূরত্বে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

এই টেস্টে এখন পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা মুমিনুল বোলিংয়েও সেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ উইকেটে ফাফ ডু প্লেসি ও টেম্বা বাভুমার ১৪২ রানের জুটি ভাঙেন মুমিনুল। প্রোটিয়া অধিনায়ক ডু প্লেসিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। এরপর বাভুমাকেও লিটন দাসের ক্যাচের পরিণত করেন স্বীকৃত ‘টেস্ট’ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত মুমিনুল। অবশ্য বাভুমার উইকেটটি পাওয়ার নেপথ্যে লিটনের অবদানই বেশি। মুমিনুলের বলে প্যাডল-সুইপের চেষ্টা করেছিলেন বাভুমা। উইকেটের পেছনে বাম প্রান্তে ঝাঁপিয়ে তাঁর ক্যাচ ধরেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ তখন ২১৭/৫।
এরপর ৫ রানের মধ্যে কুইন্টন ডি কককেও স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মুমিনুল। এখন পর্যন্ত ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন বাঁ হাতি এ স্পিনার। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সব ফরম্যাট মিলিয়ে এটাই সেরা বোলিং ফিগার। এ পর্যন্ত ২৪ টেস্টে মুমিনুলের শিকার মাত্র ৪ উইকেট। তার মধ্যে তিনটিই এল পচেফস্ট্রুম টেস্টে।

চার বছর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন মুমিনুল। ৬ ওয়ানডেতে মুমিনুলের শিকার ৭ উইকেট। কোনো ম্যাচেই দুটির বেশি উইকেট নিতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা এটি। দুবার ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। মুমিনুলের ৩ উইকেট শুধু সাকিব নয়, একজন বাঁহাতি স্পিনারের অভাবটাও বোঝাল।