মিয়ানমারেও সৌন্দর্য চর্চায় হিজাব!

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে মুসলমানরা সবসময় ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। সামাজিকভাবেও তারা উচ্চ মর্যাদা ধারন করেন না। সেই মিয়ানমারে সৌন্দর্য চর্চার ওপর ব্লগ লিখেনে উইন লেই পিউ সিন। যেখানে মুসলমানরা শঙ্কা নিয়ে জীবন যাপন করেন, সেখানে তিনি সবকিছু একটু ভিন্নভাবেই দেখেন।

তিনি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে মুসলিম নারীদের সৌন্দয্যের ব্যতিক্রমী শৈলী ও মেজাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ইয়াংগুনে সৌন্দর্য বিষয়ক পণ্যের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ১৯ বছর বয়সী এ কিশোরী সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। তার চমৎকার বিভিন্ন রঙের মেকআপ দীর্ঘ আস্তিনের সবুজ ও সাদা গাউনের হিজাব দিয়ে পুষিয়ে নিয়েছেন।

এতে বেশ কয়েকজন মুসলিম নারীও মাথায় স্কার্ফ পরে গিয়েছিলেন।

ব্লগার উইন লেই বলেন, হিজাব পরার সিদ্ধান্তে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। সৃষ্টা আমাদের জন্য বহু উপায় নির্ধারন করে রেখেছেন। হিজাব আমার কাছে চাবিকাঠির মতো। আমি যেখানেই যাই, সেখানেই এটা ব্যবহার করতে পারি।

পাঁচ কোটি লোকের দেশটিতে পাঁশ শতাংশ মুসলমান হবে। কয়েক দশক ধরে তারা সেখানে কোনো মসজিদ নির্মাণ করতে পারেন না। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে বাসা ভাড়া নিতেও বেগ হতে হয় তাদের।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর পরিকল্পিত নির্যাতন বাড়ছে। গত বছরের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া জাতিগত নিধনে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মুসলমানদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন মসজিদে তাদের প্রবেশেও বাধা দেয়া হয়।

হেই ম্যান আউং নামের ২০ বছর বয়সী এক যুবতী বলেন, আমি উইন লেইকে হিজাব পরার সময়েও মেকআপ করতে দেখেছি। এটা সত্যিই বিস্ময়কর সুন্দর। আমি তার মতো সুন্দরী হতে চাই।