মিইসটেরিয়াস ফেইস অব এনজিও

ভালোকে ভালো বলা আদর্শ ইনসানের কোয়ালিটিটিভ বৈশিষ্ট্য।কোন বিষয়ে গৃহীত সুফলেরর গুণকীর্তন না করলে নিজেকে একটু অপরাধী টেকে।প্রশংসা করার পাশাপাশি অসুবিধাকেও হাইলাইট না করলে সঠিকভাবে আমার ভাত হজম হয় না।

এনজিও চাকরি।ঘরে ঘরে আনন্দ।কিঞ্চিত বিলাসিতা।ঢাকা শহরে শ্বাসরুদ্ধকর দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিক জ্যাম শেষে যাত্রীরা ফেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস।অবিকল কায়দায় বিয়ে করবো করবো,টাকা আসুক হাতে,চাকরি জুটুক কপালে আহাজারি করা অনেকেই বিবাহ সেরে নিয়েছে দুম করে বিগত ছয়মাসব্যাপী।অন্তত বিবাহ জ্যামমুক্তির জন্য রোহিঙ্গার আগমন আশীর্বাদস্বরূপ।

এই চাকরির জোয়ারে,ঢলে ভেসে আসা বেহিসেব পাতার মতো সেলারি পেয়েও বেশকিছু মেয়ে ৩৩+ বয়সসীমায় পা রেখেও বিবাহভাগ্য হয়নি।৭০০০০-৯০০০০ সেলারি পাবার তেজে-তাপে নিলামির গাইট থেকে কাপড় বেছে বেছে ঘেঁটে ঘেঁটে পছন্দ করে কেনার মতো বর বাছাই করেই যাচ্ছে মাগার বর জুটেনা কপালে।

এনজিও চাকরি! উখিয়া- কক্সবাজার- টেকনাফে স্কুল- কলেজ পড়ুয়া স্টুডেন্টদের পড়াশোনার বেজেছে বারোটা।করেছে গাদা গাদা ফেল।হারাচ্ছে রেগুলার কলেজে ক্লাস করার সেই কিসিমের আনন্দানুভূতি।এ+ শব্দটি থেকে যোজন যোজন দূরত্বে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।যেন মুষলধারে বৃষ্টি-বজ্রপাতের তোয়াক্কা না করে ফ্রি উজান টেংরা ধরতে সবাই ছুটছে বিলে-ঝিলে।শুনতাম ঢাকায় টাকা উড়ে।অথচ স্বয়ং ঢাকাইয়ারা ঝাঁকে ঝাঁকে” ঢাকায় নয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টাকা উড়ে” শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছুটে আসছে।

এনজিও চাকরি! বনভূমিকে ধ্বংস করতে কত এনজিও ভূমিরাক্ষস হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।পাহাড়ের মাথা কেটে ন্যাড়া করার অপ্রতিরোধ্য অভিযানে ভূমিরাক্ষসরা।পাহাড় হয়ে যাচ্ছে সমতলভূমি।জমি হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা,ভাড়া বাসা আর দোকানপাটের আখড়া।

এনজিও চাকরি! রাতে ১ বছরের বাচ্চা কাঁদছে।মায়ের কোন খবর নাই।ঘুমাচ্ছে কিংবা নতুন পাতানো সোনাবন্ধুর সাথে মুচকি মুচকি হেসে চ্যাট করছে কিংবা বসের সাথে খেজুরে আলাপ করছে- পদোন্নতি চাই চাই।বাচ্চা কাঁদছে……..অবুঝ শিশু মায়ের বুকের দুধতো পেলোই না;জোরসে মার খেলো শুধু শুধু কাঁদার অপরাধে।বাচ্চা মার খেয়ে আরো জোরে কাঁদছে।জন্মধাত্রী মা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ এড়াতে উঠোনে চলে গেল।
বাচ্চা কাঁদছে।মায়ের মুখে হাসি।কানে মোবাইল।বসের ম্যারাথন কল বলে কথা!কত যে অফিসিয়াল কথা বসের কথা!!!!!!

শফিক সাহেব এনজিও কর্মী।বেতন ২৫০০০।শফিক সাহেবের স্ত্রীও এনজিওকর্মী।বেতন ৫০০০০।দুজন ই কক্সবাজারবাসী।থাইংখালী বাসা নিয়েছে।সদ্য বিবাহিত।স্ত্রীর বেতন ডাবল বিধায় স্ত্রীর গলার আওয়াজ ইদানীং বড়।কথায় তেজ।শরীর তাপময়।কথায় কথায় খোঁটা।কিছু কিছু স্বামীর কাছে স্ত্রীর সেলারী ডাবল হওয়া অভিশাপের শামিল।শফিক সাহেব সেই পুরুষদের একজন।পুরুষ নির্যাতনের সে উন্নতশ্রেণির ভিকটিম।

শফিক সাহেব স্ত্রীকে নিয়ে চিন্তিত-লজ্জিত-শংকিত।দুজনে রাত্রীকালীন বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে ঘুমানোর আয়োজন করে।স্বামী স্ত্রীসোহাগের প্রত্যাশিত অনুরাগে স্ত্রীর পানে হাত বাড়িয়ে দেয়।স্ত্রী তেলে পেঁয়াজ পড়ার লাহান ছেঁৎ করে তেলে-বেগুণে জ্বলে উঠে।হুংকার দিয়ে বলে উঠে স্ত্রী-” বিরক্ত করোনাতো!ভোরে উঠতে হবে সো একটু ঘুমাই।সারাদিন প্রচুর খাটুনি খেটেছি”।

স্বামী চুপচাপ।ধীরে ধীরে পাশ ফেরে বালিশে মুখ ঘোরায়।শুনেছি সারাজীবন মেয়েরা কেঁদেকেটে বালিশ ভেজায়।আহারে শফিক বেচারা!কেঁদেকেটে একাকার করে দিল বালিশ আর বুক।প্রতিবাদের ভাষাও নেই,সুযোগও ক্ষীণ।শফিকের সেলারী অর্ধেক বলে কথা।

রাত একটা।শফিকের ঘুম আসেনা।এ অপমান সহেনা তার জ্বালাময় বুকে।ঘুমের মতো করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।চোখ সামান্য খুলে খেয়াল করছে যে মধ্যরাতে স্ত্রী মুচকি মুচকি হাসছে আর চ্যাট করছে।খানিকবাদে বাথরুমে গিয়ে ইমুতে ভিডিও কল দিচ্ছে।শফিকের সেলারী অর্ধেক বলা কথা!!”!

মাসখানেক বাদে শফিক তার স্ত্রীকে বলে-” চলো দুজনে চাকরি ছেড়ে দিই।কক্সবাজার ফিরে যাই।আমি ব্যবসা করে সংসার করব।স্ত্রী কিছুতেই রাজি হয়না।”

স্বামী শফিক বিরক্ত হতে হতে মেজাজ সপ্তমে চড়ালে বলে-” শোন বউ,তুমি বেশি অবাধ্য হলে ডিভোর্স দেব একদম।”

স্ত্রীঃ কি বললি শফিক!ডিভোর্স।ওকে ওয়েলকাম টু ইউর রাইট ডিসিশন।আমার মনের কথা বলে দিলি।আমার ইনকাম দিয়ে ভালোই চলতে পারব।বাকী ইতিহাস থাক।

এনজিও
এনজিও
এনজিও চাকরি।

লেখকঃ
হুমায়ূন কায়সার মামুন
অনার্স- মাস্টার্স ইন একাউন্টিং।