মাহমুদুর রহমানের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোলাম মাওলা রনির প্রত্যাশা

কুষ্টিয়ায় একটি মানহানি মামলায় জামিন নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। হামলায় তাঁর মাথা ও মুখ জখম হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে বহনকারী গাড়িটি ভেঙে দেয় হামলাকারীরা। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালত চত্বর ছেড়ে চলে যান মাহমুদুর রহমান।

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রসঙ্গ নিয়ে গোলাম মাওলা রনি তার ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোলাম মাওলা রনি প্রত্যাশা করেছেন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

গোলাম মাওলা রনি লিখেছেন, ‘I do not know how many Awamileague workers will support the attack on Mahmudur Rahman ?? I am sure that Honorable Prime Minister will order to take necessary action against the guilty persons which will be an extra ordinary example in our country.’

গোলাম মাওলা রনির পরিচয়

পেশাগত জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, আধুনিক শিক্ষা এবং প্রকৃতি প্রদত্ত মেধা ও মননশীলতা দিয়ে গ্রন্থকার তার সমসাময়িক রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, ধর্ম, নীতি ও নৈতিকতাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন নিজস্ব আঙ্গিকে। তার এই নিজস্ব ও ভিন্ন মাত্রার উপলব্ধিই কলামের মাধ্যমে তিনি ফুটিয়ে তোলেন বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে। ব্যবসা ও রাজনীতির মতো জটিল ও দুরূহ বিষয়ের বাইরে গিয়ে গোলাম মাওলা রণির ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনাময় গদ্য-লিখন তাকে ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কলাম লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

১৯৬৭ সালে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার অতি সাধারণ মুসলিম পরিবারে জন্ম। শিক্ষা ও কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। একই বিষয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন। কর্মজীবন শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে। আশি দশকের শেষদিকে দেশের কয়েকটি প্রথিতযশাদৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকার বার্তা বিভাগ ও সম্পাদনা বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা দিয়ে পেশা পরিবর্তন।

পরবর্তীকালে কয়েকটি বহুজাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে আন্তর্জািতক ব্যবসার ধরন ও প্রকৃতির ওপর সম্যক ধারণা লাভ এবং ১৯৯১ সাল থেকে নিজের ব্যবসা শুরু। ব্যবসা-বাণিজ্যে সফলতা লাভের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণ কর্মকাণ্ড শুরু এবং সেই পথ ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে প্ৰবেশ। পটুয়াখালী জেলার দশমিনা-গলাচিপা উপজেলাদ্বয় নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি এমপি হন। ৯ম জাতীয় সংসদে।

খোলামেলা বক্তব্য, সাবলীল উপস্থাপনা ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ব্যতিক্রমী কলামের জন্যে ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশের সর্বত্র ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্য বহুবার জাতীয় ইসুতে টক অব দি কান্ট্রি-তে পরিণত হয়েছে। এসব কারণে গোলাম মাওলা রনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। পারিবারিক জীবনে দুই পুত্ৰ সন্তান ও এক কন্যা সন্তানের জনক। স্ত্রী কামরুন নাহার রুনু সাধারণ গৃহিণী।

মাহমুদুর রহমানের পরিচয়

মাহমুদুর রহমান এর জন্ম ৬ জুলাই ১৯৫৩ সালে। একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলী এবং ব্যবসায়ী। এছাড়াও তিনি আমার দেশ পত্রিকার মালিক পক্ষের একজন যিনি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বপালন কালে সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হন।

মাহমুদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। জাপানে প্রকৌশল বিষয়ে কাজ করার সময় ১৯৮৬ সালে জাপান থেকে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৮ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট থেকে ব্যবসা প্রশাসনের উপর এমবিএ করেন।

মাহমুদুর তার কর্মজীবন ব্রিটেনের গ্যাস কোম্পানি ব্রিটিশ অক্সিজেন কোম্পানিতে অপারেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ শুরু করেন। এরপর তিনি মুন্নু সিরামিক, ডাকান ব্রাদার্স, বেক্সিকো গ্রুপ, পদ্মা টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। জাপানেও সুনাতের সহিত কাজ করেছেন।

১৯৯৮ সালে মাহমুদুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ১৯৯৯ সালে তিনি আর্টিসান সিরামিক লিমিটেড নামে কোম্পানি গড়ে তোলেন। এটিই সিরামিকে দেশের প্রথম প্রযুক্তিগত “ব্রেক থ্রো” ও চীনা বোন কারখানা ছিল। ২০১৩ সালে তিনি আর্টিসান বিক্রি করে দেন।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে ২০০২ মাহমুদুর জাতীয় বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পাচঁ আই ( “five ‘I’s”) থিওরি প্রচলন করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজ হল মেঘনা এনার্জি লিমিটেড, কাচঁপুরের জন্য বিদেশী বিনিয়োগ আনয়ন। ২০০২ থেকে ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিদেশী বিনিয়োগ ৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পায়; যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৪ সালে জাতিসংঘ প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধিদল আওয়ামীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২০ জন নিহত ও ৩০০ অধিক আহত হয়; ফলে সরকার বিরোধী হরতাল লাগাতার চলতে থাকে। মাহমুদুর উভয় পক্ষের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতা বিদেশী বিনিয়োগের জন্য হুমকি, এবং এর জন্য সরকারি নিরাপত্তা প্রদান করা উচিত।২০০৪ সালের ডিসেম্বরে রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে এর প্রতিবাদ স্বরুপ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিকট পদত্যাগ পত্র জমা দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করলে তার চুক্তির দুই বছর বিনিয়োগ বোর্ডের দায়িত্ব সমাপ্ত করেন।

২০০৮ সাল থেকে মাহমুদুর রহমান আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১১ এপ্রিল ২০১৩ ইং, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে তাকে কাওরান বাজারের আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্লগারদের লেখা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ রয়েছে।

সুত্র::নয়াদিগন্ত