মধ্য নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় না জাতিসংঘ

নিউজ ডেস্ক ::
মধ্য নভেম্বরের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি স্থগিত করতে বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) জেনেভায় এই বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন সংস্থাটির মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইয়াহি লী।

তিনি জানান, বাংলাদেশের কক্সবাজারের একাধিক শিবির থেকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার দিতে মিয়ানমার সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষ বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথভাবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানায় যে ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইয়াহি লী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে কোনো ধরনের অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, এমন কোনো আলামত চোখে পড়ছে না। ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি মিয়ানমার সরকার।’

ad

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৬ এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে তা ভোলার মতো নয়। ওই নির্যাতনের এখনো বিচার হয়নি এবং মিয়ানমার সরকার ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার কাছে তথ্য আছে যে যে সকল রোহিঙ্গাদের নাম প্রত্যাবাসনের জন্য দেয়া হয়েছে তারা এখন আতঙ্কে রয়েছে।’

ইয়াংহি লী বলেন, ‘যারা মিয়ানমার ফিরে যাবেন তাদের জন্য কয়েকটা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এতেই কী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়? নিরাপদে বসবাস, পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা, চলাফেরার স্বাধীনতা, কাজ করার স্বাধীনতা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন ঝুঁকিপূর্ণ।’

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিনীত অনুরোধ, এখনই প্রত্যাবাসনের কর্মসূচি স্থগিত করে সবার আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করুন।’