ভারত থেকে আসা দুই পরিবারের ১১ রোহিঙ্গা আটক

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প এলাকায় ভারত থেকে ফেরা দুই পরিবারের ১১ রোহিঙ্গাকে আটক করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। গত তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে এ রকম অন্তত ৭০০-৮০০ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

ভারত থেকে আজ বৃহস্পতিবার ফিরে আসা দুই পরিবারের ১১ সদস্যের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাইমুল হক। তিনি জানান, ক্যাম্প-১/ইস্ট থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে।
এসপি নাইমুল জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভারত থেকে পালিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে। আটক রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে পাঠানো হলে সেখান থেকে তাদের ট্রানজিট ক্যাম্পে প্রেরণ করা হয়।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের ইস্ট বি ব্লকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা হাসিম (৩০) পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে ফিরে এসেছেন ভারত থেকে। বুধবার রাতে ক্যাম্পের হেড মাঝি জাফর আলমের সহায়তায় ভারত থেকে ফেরা রোহিঙ্গা হাসিমের সাথে আলাপকালে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে জম্মু-কাশ্মীরে বসবাস করছি। ছিলাম মেরুয়াল কার্গি কলোনি টেরি নামে পরিচিত এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। সেখানে পুলিশ এখন রোহিঙ্গাদের খুঁজে খুঁজে কারাগারে নিক্ষেপ করছে। পুলিশের অভিযানে সেখানে আর বসবাসের পরিবেশ নেই। এ কারণে প্রচুর সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। ‘

ভারত থেকে ফেরা রোহিঙ্গা হাসিম জানান, ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কুতুপালং ক্যাম্পে মাত্র ১৬ দিন থাকার পর তিনি আরো চার-পাঁচটি পরিবারের সাথে পাড়ি জমান ভারতে। তখন তিনি স্ত্রী লায়লা এবং ছেলে এমেনশাহকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে যাওয়ার পর তার ঘরে জন্ম নেয় আরো দুই কন্যা নূর সাহারা (৫) ও নূর কয়দা (৩)। সেখানে মাসে এক হাজার রুপি দিয়ে ঘর ভাড়ায় থাকতেন। রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে কাজ করতেন।

রোহিঙ্গা হাসিম আরো জানান, ভারতীয় পুলিশের অভিযানের মুখে সেখানে কর্মরত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে অনেককে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় পুলিশের সাফ কথা―ভারত না ছাড়লে সোজা তাদের সীমান্তে নিয়ে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাই ভয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। জম্মু-কাশ্মীর থেকে আগরতলা সীমান্ত পর্যন্ত আসতে তার পাঁচ দিন সময় লেগেছে বলে জানান। আসার পথে ভারতে একটি দালাল গ্রুপকে রাস্তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য সাত হাজার রুপি দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

কুতুপালং ২ নম্বর ইস্ট ক্যাম্পের হেড মাঝি জাফর আলম জানান, ভারতে যাওয়া রোহিঙ্গারা সে দেশের পুলিশের তাড়া খেয়ে আবার ক্যাম্পে ফিরছে। তাদের যথারীতি ট্রানজিট ক্যাম্পে রেখে পুনরায় মূল ক্যাম্পে নিয়ে আসা হচ্ছে। ক্যাম্প-২-এর ৭ নম্বর ব্লকের রোহিঙ্গা সাব-মাঝি ওসমান জানিয়েছেন, তার এলাকায় ইতিমধ্যে ভারত থেকে দুটি পরিবার এসেছে। এর মধ্যে একটি পরিবারের সদস্যরা বালুখালী ক্যাম্পে আত্মীয়-স্বজনের কাছে গেছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন