বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ুক সৌন্দর্য

রাজনীন ফারজানা।।

প্রাকৃতিক নিয়মেই সব সৃষ্টির বয়স বাড়ে। বয়স বাড়লে নানা শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপশি চেহারায় বয়সের নানান চিহ্ন দেখা দেয়। চোখের কোলে, নাকের দুপাশে কিংবা কপালের পাশে দেখা দেয় বলিরেখা কিংবা চামড়ায় ভাঁজ পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানারকম রোগব্যাধি দেখা দিতে শুরু করে। কেউ কেউ শরীরের নানা অংশে ব্যাথায় ভুগতে থাকেন। সব মিলিয়ে বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা আর কর্মক্ষম থাকার সময় দুইই কমে যায়। তাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের জীবনে জড়তা যেন না আসে সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে আগেভাগেই।

অল্প বয়স থেকেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ত্বকের যত্ন নিতে শুরু করলে শারীরিক ও মানসিক দুইভাবেই বার্ধক্য আসা পেছানো সম্ভব। তাছাড়া বর্তমান সময়ে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন বার্ধক্য আসা পিছিয়েও গেছে। একসময় যা ছিল মধ্যবয়স, এখন সেটাই তারুণ্য।

‘এজিং’ বা বয়স বাড়া রুখে দেয়া না গেলেও কিছু সচেতনতা অবলম্বন করলে বয়স বাড়াকে ইতিবাচক ও সুস্থতার সাথে জয় করা যায় সহজেই।

মেকআপ বা অপারেশনে সমাধান না খুঁজে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন

যেকোন বয়সেই মেকআপের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলা, চেহারার বৈশিষ্ট্য ঢাকা নয়। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে আমাদের চেহারায় ও ত্বকে আসা পরিবর্তন দেখে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই মেকআপ দিয়ে সেসব চিহ্ন ঢাকতে চেষ্টা করেন। এটা করা একদমই উচিৎ না। বরং নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিন। প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কার করতে হবে, নিয়ম করে সারা গায়ে ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে। কোলাজেন উৎপাদন করে এমন প্রসাধনী ব্যাবহার করতে চেষ্টা করুন। কারণ বয়সের সাথে সাথে ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন কমে যায় যা ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখে। প্রসাধনী কেনার সময় তাই পণ্যের গায়ে উপাদান আর গুণাবলী দেখে কেনা উচিৎ।

শুধুমাত্র মুখের যত্ন নিলেই হবে না, সমপরিমাণ যত্ন নিতে হবে কাঁধ এবং হাত পায়ের। কারণ কাঁধ, গলা ও হাত পায়ের চামড়া কুঁচকে গেলে বয়স্ক দেখায়। মুখ ধোয়ার সময় নিয়ম করে কাঁধ ও গলা পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে।

এছাড়াও তারুণ্যদীপ্ত ত্বকের জন্য সারাবছরই বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফসমৃদ্ধ সানব্লক মাখতে হবে। সূর্যালোক ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেকটাই দায়ী। তাই যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলতে হবে।

ত্বক টানটান করার জন্য অনেকে ছুরি কাঁচির নীচে নিজেকে সঁপে দেন। কিন্তু নিয়মিত সঠিক নিয়মে মাসাজ করলে এবং সঠিকভাবে যত্ন নিলে তারুণ্যে ঝলমলে ত্বক ধরে রাখতে পারবেন দীর্ঘদিন।

যখনই চেহারায় বয়সের লক্ষণ যেমন ত্বকের শুষ্কতা, কুঁচকানো ভাব বা উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করবে, তখনই সচেতন হতে হবে। ত্বকের সমস্যার ধরণ বুঝে প্রসাধনী ও ত্বক পরিচর্যার উপাদান বেছে নিন। প্রয়োজনে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা রূপচর্চা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারও ত্বকে যদি গুরুতর কোন সমস্যা থাকে তবে চাইলে লেজারের সাহায্যও নিতে পারেন। অনেকেই শরীরের বাড়তি পশম বা ত্বকে থাকা গভীর ক্ষতের দাগ নির্মুলের জন্য লেজার ট্রিটমেন্টের সাহায্য নিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

বাজারে প্রচলিত এন্টি এজিং ক্রিম ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। আর মাসাজ করতে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

বয়সের সাথে সাথে চুলের কাট, পোশাকের ধরণ এমনকি সাজগোজের ধরণেও কিছুটা মার্জিত রুচির ছাপ আসলে দেখতে ভালো লাগবে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস

বলা হয়ে থাকে ত্বকে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের প্রতিচ্ছবি পড়ে । শরীরে বয়স বাড়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া পিছিয়ে দিতেও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রনের বিকল্প নাই তাই। এখন ক্লিন ইটিং টার্মটা বেশ জনপ্রিয়। অর্থাৎ যতটা সম্ভব অরগ্যানিক বা ভেষজ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাভুজি, চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন, চিনি, লবণ আর প্যাকেটে প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে এড়িয়ে চলতে হবে। খাদ্যতালিকায় রাখুন বেশি বেশি শাকসবজি, ফল, বাদাম আর চর্বিমুক্ত দুধের তৈরি খাবার।

গবেষণা বলছে ভেষজ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে তা হৃদরোগ, ক্যানসার, পারকিসনস আর আলঝেইমারসের মত রোগের প্রতিরোধ তৈরি করে। খাবারে কৃত্রিম উপাদান বা রাসায়নিক মেশালে বয়সের সাথে সাথে নানারকম রোগ হওয়ার জন্য যেসব ক্রোমোজোম দায়ী তাদের কার্যক্রম বদলে দেয়।

আঁশ বেশি এমন খাবার খেলে শুধু যে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, তাই না, এটা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং কোলন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

একটু বয়স বেড়ে যাওয়ার পর অনেকেই কোষ্ঠ্যকাঠিন্যে ভুগে থাকেন। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য যাতে না হয় তাই নিয়মিত বেশি করে আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে। পঞ্চাশ বছর বয়সের পর পুরুষদের দিনে অন্তত ৩০ গ্রাম আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে আর মহিলাদের জন্য পরিমাণটা ২১ গ্রাম। নিয়মিত কোষ্ঠ্য পরিষ্কার হলে ত্বকে সহজে ব্রণ বা অন্য সমস্যা দেখা দেবে না।

নিয়মিত ব্যায়াম অবশ্যই

নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ও অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়। ফলে আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রম রোগের সম্ভাবনা কমে যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত অ্যারোবিক এক্সারসাইজে স্মৃতিভ্রম রোগের লক্ষ্মণ ও সম্ভাবনা দূর করে।

কিছু না হোক, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটুন। একটানা না পারলে সারাদিনে কয়েক ভাগ করে হাঁটুন। নিয়মিত হাঁটলে বা ব্যায়াম করলে-

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে

মুড চনমনে থাকবে

হাড় ও পেশি মজবুত হবে

ভালো ঘুম হবে

এছড়াও হৃদরোগ, টাইপ টু ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আর উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম।

লায়লা হাসান ও হাসান ইমাম

নিজেকে একা করে রাখবেন না

ad

একাকীত্ব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একাকীত্বে যে কেউই ভুগতে পারেন। সে একা বাস করুক কি পরিবারের সাথে। কারও বন্ধু থাকুক বা না থাকুক তবুও একাকীত্বে ভোগার সম্ভাবনা থাকে। আর কেউ একাকীত্বে ভুগলে ডিমেনশিয়া বা সাময়িক স্মৃতিবিভ্রম ও বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষত একটু বেশি বয়সীদের মধ্যে যারা একাকীত্বে ভুগে থাকেন তারা দৈন্দন্দিন কাজকর্ম যেমন গোসল করা ও সিঁড়ি ভাঙার মত কাজে সমস্যা অনুভব করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে একাকীত্বে থাকা ব্যক্তির স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। ফলে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ, শরীরের কোন অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, আর্থাইটিস এবং ডায়াবেটিসের মত সমস্যা বেশি দেখা দেয়। অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে একাকীত্বে ভোগা মানুষদের শরীরে হারপিস নামক একধরণের ভাইরাস দেখা যায় যা মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একধরণের স্ট্রেস তৈরি করে। অর্থাৎ একাকীত্বে ভোগা লোকেদের প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে সুস্থতা ধরে রাখতে চাইলে বন্ধু বাড়ান, মানুষের সাথে মিশতে ও কথা বলতে চেষ্টা করুন। কিছু না হোক অপিরিচিত মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। যেভাবেই হোক মানুষের সংস্পর্শে থাকুন।

ধূমপান বাদ দিতে হবে

তামাকে থাকা নিকোটিন আমাদের শরীরের প্রায় সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্য ক্ষতিকর। হৃদরোগ, ক্যানসার, ফুসফুস ও মাড়ির রোগ ছাড়াও এটা নানা রোগের জন্য দায়ী। সিগারেট পান করার ফলে শরীরে যেসব ক্ষতি হয়, ধূমপানের পরপর স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে অন্তত ২০ মিনিট সময় লাগে। তাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে সুস্থ থাকতে যত দ্রুত সম্ভব ধূমপানের অভ্যাস বাদ দিতে হবে।

কিছু কিছু সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার এখনই সময়

পঞ্চাশ বছর পার করার পর আমাদের শরীরে বেশ কিছু অতিরিক্ত ভিটামিন ও মিনারেল প্রয়োজন হয়। খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ না হলে আলাদা করে সাপলিমেন্ট নেওয়ার কথা বলেন পুষ্টিবিদেরা।

আসুন দেখে নেই কী কী ভিটামিন প্রয়োজন

মজবুত হাড়ের জন্য ক্যালসিয়াম

ভিটামিন ডি (চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে)

বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাবার থেকে বি১২ গ্রহণ করার সক্ষমতা কমে যায়। তাই বি১২ আছে এমন খাবার যেমন সিরিয়াল বা সাপলিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

ভিটামিন বি৬ রক্তের লাল কণিকাগুলোকে শক্তিশালী করে যা সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে। তাই অনেকসময় ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হতে পারে।

ইতিবাচক চিন্তা ধরে রাখুন

জীবনে আমাদের নানারকম ঘাত প্রতিঘাত পার হতে হয়। প্রিয়জনের মৃত্যু ঘটে, অভাব অনটন আসে বা নানারকম অসুস্থতায় ভুগি আমরা। সবকিছু মিলিয়ে জীবনে নানাসময়ে নেতিবাচক চিন্তা আসা স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরেও আশা হারালে চলবে না আমাদের। বরং কি হারিয়েছে সেই চিন্তা না করে জীবনের প্রাপ্তিগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। এতে ইতিবাচক চিন্তা আসবে জীবন সম্পর্কে। যাদের জীবনে ইতবাচকতা বেশি তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভাবনা কমে যায় ও তাদের আয়ুও তুলনামূলক বেশি বলে নানা গবেষণায় দেখা গেছে।

আসুন দেখে নেই জীবনে ইতিবাচক হবেন যেভাবে,

হাসুন, হোক না তা মেকি। হাসির বিকল্প নাই। এতে করে স্ট্রেস বা মনের ওপর চাপ কমে।
নেতিবাচক কিংবা খারাপ ঘটনা নিয়ে না ভেবে ইতিবাচক ও ভালো জিনিস নিয়ে ভাবতে হবে। এতে করে জীবনে খারাপ কিছু ঘটলে সেটা মোকাবিলা করা সহজ হয়ে যাবে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তালিকা করে করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
অন্যের ভালো করুন সবসময়।
যেসব ব্যক্তি আপনার মাঝে দারুণ ইতিবাচকতা জাগায় এবং আপনি ভালো বোধ করেন যাদের সাথে তাদের সাথে বেশি বেশি সময় কাটান।
মানুষ তার জীবনে সব পরিস্থিতি বদলাতে পারে না। তাই যেকোন দুর্ঘটনা কিংবা নেতিবাচক পরিস্থিতিতে স্বভাবিক থাকুন। কোনকিছু বদলানো যে আপনার হাতে নাই তা মেনে নিন।

শারমীন লাকি- ছবি: আশীষ সেনগুপ্ত

পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নাই

বয়স বেড়ে গেলে অনেকের ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। ঘুম আসতে যেমন সমস্যা হয় তেমনি সমস্যা হয় দীর্ঘক্ষণ একটানা ঘুমাতে। কিন্তু স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর বিকল্প নাই। যদি ঘুমাতে সমস্যা হয় তবে এগুলো মেনে চলুন,

ঘুমানোর বেশ কিছুক্ষণ আগে শোবার ঘর অন্ধকার করুন
সন্ধ্যায় চা কিংবা কফি অর্থাৎ ক্যাফেইন আছে এমন কিছুই খাওয়া যাবে না যদি কারও ঘুমের সমস্যা থাকে
দিনের বেলায় বিশ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না
অনেকসময় অনেক ওষুধের কারণে ঘুমের সমস্যা হয়। এমন হলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নেবেন অবশ্যই
জীবনযাপন পদ্ধতি

তারুণ্য ধরে রাখতে পরিকল্পিত আর সুন্দর জীবনযাপনের বিকল্প নাই। সঠিক সময়ে ঘুম, খাওয়া আর ব্যায়াম করতে হবে। সেইসাথে এড়িয়ে চলতে হবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস। বয়স বেড়ে গেলে অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা টিভি দেখে বা সোফা কিংবা আরামকেদারায় বসে বইপত্র পড়ে কাটান। কিন্তু শারীরিক সুস্থতা ও নিরবচ্ছিন্ন কর্মক্ষমতা পেতে চাইলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস বাদ দিতে হিবে।

এমনকি দীর্ঘসময় টিভি দেখলে আয়ু কমে যেতে পারে মানুষের। অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণার প্রতিবেদন বলছে পঁচিশ বছর বয়সের পর প্রতি ঘন্টা টিভি দেখায় ২২ মিনিট করে আয়ু কমে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত টিভি দেখার অভ্যাস মানুষকে অসামাজিক করে তোলে। কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য সামাজিকতার বিকল্প নাই।

মানসিক চাপমুক্ত থাকতে চেষ্টা করুন

কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত মানসিক চাপ মানুষের চেহারায় দশ বছর বেশি বয়সের ছাপ এনে দিতে পারে। মানসিক চাপ নিদ্রাহীনতা, বিষণ্ণতা এবং হৃদরোগের জন্য দায়ী। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে মানসিক চাপ মুক্ত থাকা বলতে গেলে অসম্ভব। কিন্তু তারুণ্য ধরে রাখতে এসব চাপ নিয়ন্ত্রণের উপায় আত্মস্থ করার বিকল্প নাই। মেডিটেশন, ব্যায়াম কিংবা শুধুমাত্র নিজের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে আমরা প্রতিদিনকার মানসিক চাপ কমাতে পারি।

বার্ধক্য রুখতে চাইলে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। আসক্তি হতে পারে মাদকের, এলকোহলের, মিষ্টি জাতীয় খাবারের, সিগারেট, পান কিংবা তামাকের, ফাস্টফুডের, কিংবা অন্য যেকোন খারাপ কিছুর আসক্তি। এসব আসক্তি ডেকে আনতে পারে নানারকম শারীরিক ও মানসিক রোগ। তাই যেকোন আসক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, সুস্থ ও তরুণ থাকুন।

ফিচার ফটো আলোকচিত্র- ফারহানা আক্তার

ফিচার ফটো মডেল- শিল্পী রহমান

সারাবাংলা