বাংলাদেশের সঙ্গে বসতে চায় মিয়ানমার

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার প্রায় একমাস পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। জাতিসংঘের সাইড লাইনে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং টুনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠকে মিয়ানমার এ প্রস্তাব দেয়। পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমার সফরের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেঁসকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পাবলিকলি ব্রিফ বা উন্মুক্ত বিবৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের অর্ধেক সদস্য রাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মিশর, সেনেগাল, সুইডেন ও কাজাখস্তান শুক্রবার এই আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সামনে উন্মুক্ত বিবৃতির আয়োজন এই সপ্তাহেই করতে পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইথিওপিয়াকে অনুরোধ করেছে সাত সদস্য দেশ। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, সহিংসতার শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দশ হাজার পার করেছে মধ্য সেপ্টেম্বরেই। ঘটনার শুরু গত ২৪শে আগস্ট দিনগত রাতে রাখাইনে যখন পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ‘অভিযানের’ নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ফলে লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলে আসছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সমপ্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবরেও প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।