ad

বদি কি বদলে গেছেন

আবু তাহের, সমকাল ::
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসন থেকে দু’বারের নির্বাচিত সাংসদ আবদুর রহমান বদি। ইয়াবা পাচারকারীদের গডফাদার হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে তার নাম। এই তালিকায় তার চার ভাইসহ নিকটাত্মীয় আরও অনেকের নামও রয়েছে। এ কারণেই এবার সংসদ নির্বাচনে পাননি দলের মনোনয়ন। তার পরও নিজের পরিবর্তে স্ত্রী শাহীন আকতারকে সাংসদ করতে পেরেছেন বদি। তবে এবার নিজের নামের সঙ্গে থাকা মাদকের গডফাদার দুর্নাম ঘোচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। মাঠে নেমেছেন ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করাতে। অনেকেই এটিকে বদির নতুন কৌশল হিসেবেই মনে করছেন। জনমনে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বদির এই বদলে যাওয়া।

পুলিশ জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় কক্সবাজার জেলার এক হাজার ১৫১ ইয়াবা কারবারির নাম রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই টেকনাফের বাসিন্দা। তালিকায় বর্তমান ও সাবেক ৩৪ জনপ্রতিনিধিকে ইয়াবার গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৩৭ জন। তাদের মধ্যে ৩৪ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। তার পরও ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণে না আসায় সেখানে পুলিশের বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ভোরে টেকনাফের সাবরাং আলীর ডেইল এলাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একটি অটোরিকশা জব্দ করে বিজিবি। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। ঘটনার পর দিন ওই ইয়াবা ও অটোরিকশা মালিককে খুঁজে বের করতে সাবরাং এলাকায় যান আবদুর রহমান বদি। ওই সময় তার সঙ্গে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীও ছিলেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইয়াবার দুর্নাম নিয়ে আর বেঁচে থাকতে চাই না। জীবন বাজি রেখে ইয়াবা বন্ধ করব।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু ভিডিও প্রকাশ নয়, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণে সহায়তা করার জন্য ইয়াবা কারবারিদের নাম তালিকাভুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বদি নিজেই ওই তালিকা তৈরি করছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেশ কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী তালিকায় নামও তুলেছেন। তালিকায় বদির ভাই আবদুল আমিন, আবদুর শুক্কুর, শফিক রহমান, ফয়সাল রহমান, ভাগনে শাহেদ রহমান নিপুসহ আরও কয়েকজন আত্মীয়ের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিটের উদ্যোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তারা আত্মসমর্পণ করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২১ জানুয়ারি ওই আত্মসমর্পণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তা দু’দিন পিছিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণের উদ্যোগ ইয়াবা কারবারিদের মধ্যেও বেশ সাড়া ফেলেছে। এরই মধ্যে শতাধিক ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি হিসেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জিম্মায় চলে গেছেন। বৃহস্পতিবার পুলিশের হেফাজতে গেছেন টেকনাফের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি একরামুল হক। একরামকেও আত্মসমর্পণে রাজি করিয়েছেন সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি। সাবরাং ইউপি সদস্য শামশুল আলম ও শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ তৈয়বও পুলিশের হেফাজতে আছেন। এ ছাড়া আত্মসমর্পণ করছেন বলে পাওয়া তালিকায় আছেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহর ভাই আবদুর রহমান, জিয়াউর রহমান, সদর ইউনিয়নের এনামুল হক, হ্নীলা ইউপি সদস্য নুরুল হুদা, সাবরাং এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন দানুসহ শীর্ষ কারবারিদের কয়েকজন।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার নেতা অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, ‘ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করানোর প্রস্তুতি চলছে বলে যে খবর রয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশেষ ইয়াবা কারবারিদের রক্ষা করা হচ্ছে কি-না ভেবে দেখতে হবে।’ তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করে তাদের অর্থবিত্ত রক্ষা করার কৌশল নিয়েছে কি-না তাও বিবেচনায় নিতে হবে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। এ অবস্থায় কিছুসংখ্যক ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানোর পর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ad