ad

বদিকে আত্মসমর্পণ করাবে কে?

কালেরকন্ঠ – কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি সীমান্তের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণে পাঁচ দিনের সময়ও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

আত্মসমর্পণের জন্য ইয়াবা কারবারিদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলেছেন।
গত শুক্রবার বিকেলে টেকনাফ চৌধুরীপাড়ায় নিজ বাসভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য স্ত্রী শাহীন আক্তারকে নিয়ে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন বদি।

উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে বদি বলেন, ‘তালিকাভুক্ত এবং তালিকার বাইরে যেসব ইয়াবা কারবারি রয়েছে, সবাই আত্মসমর্পণ করুন। এই ইয়াবার কারণে কারো মা-বাবা সন্তানহারা হচ্ছে, কারও স্ত্রী স্বামীহারা হচ্ছে। ইয়াবা টেকনাফবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। আপনাদের কথা চিন্তা করে আত্মসমর্পণ করানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ’

ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ বিষয়ে গতকাল শনিবার রাতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীমান্তের ইয়াবা কারবারিরা গত কিছুদিন ধরে আত্মসমর্পণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে। যেহেতু ইয়াবা কারবারিরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইছে, এ ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সীমান্তের ইয়াবা কারবারিদের পীড়াপীড়িতে হয়তো এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে বদি এমন উদ্যোগে শামিল হতে চাইছেন। ’
ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে বদির ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাঁর এমন বক্তব্যে টেকনাফে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ‘বদি ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানালেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা ইয়াবা কারবারিদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে তাঁর নাম। এই বদিকে আত্মসমর্পণ করাবে কে ?’

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বদিপত্নী শাহিন আকতারের ওই মতবিনিময়সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইয়াবা কারবারির তালিকায় নাম থাকা টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান মৌলানা রফিক উদ্দীন, তাঁর ভাই ইউপি চেয়ারম্যান মৌলানা আজিজ উদ্দীনসহ সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা।

মতবিনিময়সভায় সংসদ সদস্য শাহিন আকতার বলেন, ‘আত্মসমর্পণ না করলে ইয়াবা কারবারিদের দেশ ছাড়তে হবে। এলাকায় তাদের রেহাই নেই। কোনো ইয়াবা কারবারি এলাকায় থাকতে পারবে না। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। ’

ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে বদির বক্তব্যে খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও কানাঘুষা চলছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুরা মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বদি সাহেব সীমান্তের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করতে বলছেন এটা ভালো কথা। কিন্তু যারা হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে তাদের কি বিচার হবে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় এমপি বদির নাম শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাঁর ব্যাপারে কী হবে?’

যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে এমপি বদির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ad