উখিয়ার বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া ::

দীর্ঘ লকডাউনের পর আজ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা খুলেছে।তাই গাদাগাদি করে প্রিয় প্রাংগনে শিক্ষার্থীদের যাওয়া

উখিয়া বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন সিরাজি বলেছেন, ১৭ মাস পর স্কুলে সকল শিক্ষক উপস্থিত। ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি এক আবেগময় পরিবেশ। এ যেন ১ বছর ৫ মাস ২৫ দিন পর যেন আমরা আমাদের হারোনা সন্তানদের ফিরে পেলাম। শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের মেল বন্ধনে আবার পরিপূর্ণতা ফিরে এসেছে। চলতি শিক্ষা বছরেরও আট মাস শেষ ইতিমধ্যে। নবম মাসের মাঝামাঝি এসে নতুন শ্রেণিতে প্রথম দিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও একই দিনে সব শিক্ষার্থীর ক্লাস থাকছে না। ২০২১-২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে। প্রথম,দ্বিতীয়, তৃতীয়,চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আসবে সপ্তাহে মাত্র একদিন। সপ্তাহে প্রতিদিন নির্দিষ্ট শ্রেণিতে দুটি করে ক্লাস হবে। এভাবেই করোনাকালে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রুটিন তৈরি করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী সন্তানতুল্য স্নেহস্পদ শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে। কারণ এই বছর নতুন শ্রেণিতে এক দিনও ক্লাস হয়নি। অনলাইন ক্লাসে সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আজ আনন্দঘন পরিবেশে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। আজ আমাদের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহ পাক যেন সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সুস্থ ও সুন্দর রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চারিয়ে নিতে পারি এটিই এখন একমাত্র চাওয়া। থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কমরুদ্দিন মুকুল বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাস্ক, স্যানিটাইজার, শরীরের তাপমাত্রা ও ওজন রাখার যন্ত্র রাখা হয়েছে। এসব নিয়ম-কানুনে চিরচেনা শ্রেণিকক্ষে অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। দুই বন্ধু পাশাপাশি বসে ক্লাস করতে পারবে না। জেড আকৃতিতে বসতে হবে শ্রেণিকক্ষে। টিফিন ভাগাভাগি করে খাওয়া যাবে না। সারাক্ষণ পরে থাকতে হবে মাস্ক। শিশু শিক্ষার্থী তামান্না বলেন, আজ আমি অনেক খুশি। বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে। বাড়িতে একদম ভাল লাগে না। অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের একজন নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, আনন্দ উৎসবের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি আসলে কতটা মানা হবে? অনেকেই দুটানায় আছেন তার সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো নিয়ে। করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে ঢিলেমি করা চলবে না। মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন