বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’, পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর ভূমিধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড়ে বসবাসরতদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিতলি’।

মঙ্গলবার (০৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এই সতর্কবার্তা জারি করে নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে গিয়ে মাইকিংও করছে জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম।

জেলা প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে পাহাড়ে এবং এর পাদদেশে বসবাসরতদের সরে যেতে বলা হচ্ছে।

নগরীর লালখানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়।

ad

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থারনরত ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, মোংলা থেকে ৮৮০ কিলেমিটার দক্ষিণ- দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এ সময় নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

ঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।