ফজরের নামাজের ৭ উপকারিতা

ডেস্ক রিপোর্ট:
ফজরের নামাজ মূলত দুই রাকাত সুন্নত ও দুই রাকাত ফরজ নামাজ নিয়ে গঠিত। ফরজ অংশ ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত ফজরের নামাজের সময়। ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজের পর ফরজ নামাজ পড়তে হয়। উল্লেখ্য, ফজরের সময় শুরু হওয়া থেকে ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ রোজার সময়ও শুরু হয়।

ফজরের নামাজ আদায়ে বিশেষ ৭টি উপকারী দিক পাঠকের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।

১. ফজরের নামাজে দাঁড়ানো, সারা রাত দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সমান।
‘যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ঈশার নামাজ আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়লো।’ (মুসলিম)।

২. সে দিনের পুরোটা আল্লাহর জিম্মায় থাকার দুর্লভ সৌভাগ্য। ফজরের নামাজ পড়লেই শুধু এ-ঈর্ষণীয় সৌভাগ্য লাভ করা যাবে।
‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে’। (মুসলিম)।

৩. ফজরের নামাজ কেয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দেবে।
‘যারা রাতের আঁধারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ ‘নূর’ প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও’ (আবু দাউদ)।

৪. সরাসরি জান্নাত প্রাপ্তি। শুধু ফজরের নামাজটা পড়লেই হবে।
‘যে ব্যক্তি দুই শীতল (নামাজ) পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর দুই শীতল (নামাজ) হলো ফজর ও আসর’ (বুখারী)।

৫. রিজিকে বরকত আসবে। ফজর নামাজটা পড়লেই হবে। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন, সকাল বেলার ঘুম ঘরে রিজিক আসতে বাধা দেয়। কেননা, তখন রিজিক বণ্টন করা হয়।
‘ফজরের নামাজ পড়লে, দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে। ফজরের দুই রাকাত নামাজ, দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ (তিরিমিযি)।

৬. সরাসরি আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে।
‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফিরিশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফিরিশতাদেরকে প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে?-আমরা তাদেরকে নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা নামাজরত ছিল’ (বুখারি)।

৭. ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে পুরো দিনের কার্যক্রমের একটা বরকতম সূচনা হবে। ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্যে, তার সকাল বেলায় বরকত দান করুন’ (তিরমিযী)।

আমরা যদি দিনের শুরুটা ভাল কিছু দিয়ে শুরু করতে চাই তবে অবশ্যই ফজরেরর নামাজটা নিয়ম মেনে আদায় করতে হবে। আরও ভাল হয় যদি তাহাজ্জুদ দিয়ে শুরু করা যায়। তাহলে আমাদের কাজ ও নিয়তেও বরকতপ্রাপ্তি হবে।