পূজার কথা বলে মিয়ানমারে গিয়ে আর ফেরেনি ২৭ রোহিঙ্গা

ডেস্ক রিপোর্ট ::
আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৫২৩ হিন্দু রোহিঙ্গার মধ্যে ২৭ জন দুর্গাপূজার কথা বলে মিয়ানমারে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে এসব হিন্দু রোহিঙ্গা মিয়ানমারে যায়। ক্যাম্পে অবস্থানকারীদের ধারণা, তারা মিয়ানমারে পালিয়ে গেছে।

কুতুপালং রোহিঙ্গা হিন্দু পল্লীর ফাইল ছবি

গত ২৯ আগস্ট মুসলিম রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি এই হিন্দু রোহিঙ্গারাও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে উখিয়ায় চলে আসেন। কুতুপালং পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা।

হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বয়ক বাবুল শর্মা জানিয়েছিলেন, ‘হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা, খাদ্য ও বাসস্থানসহ কোনও কিছুর অভাব ছিল না। বিজয়া দশমীর দিন দুর্গাপূজার কথা বলে ছয় পরিবারের ২৭ হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। শুনেছি তারা মিয়ানমারে পালিয়ে গেছে।’

উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দেখাশোনার দায়িত্ব পালনকারী সুজন শর্মা জানান, ক্যাম্পে অবস্থান নেওয়া হিন্দু রোহিঙ্গা নারী রিখা ধর, রাজকুমারী, প্রমিলা ধর, অনিথা ধর, রিনা ধরসহ ছয় পরিবারের ২৭ হিন্দু রোহিঙ্গা মিয়ানামারে চলে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কী কারণে বা কেন তারা ফেরত গেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। বিষয়টি মৌখিকভাবে উখিয়া থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ও কক্সবাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন বলেন, ‘রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা ৫২৩ হিন্দু রোহিঙ্গাকে উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে রাখা হয়। তাদের পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রীও দেওয়া হয়। তবে দুর্গাপূজার সময় ২৭ রোহিঙ্গা পূজা দেখতে যাওয়ার কথা বলে অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে বের হন। তারা আর ক্যাম্পে ফিরে আসেননি।’

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, মিয়ানমারে ২৭ হিন্দু রোহিঙ্গা পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছেন। তবে বিস্তারিত জানেন না। এ ব্যাপারে কেউ জিডি করতেও আসেননি।

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে হই চই পড়ে যায়। এ সময় সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। সভায় উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি খামারে আশ্রিত অবশিষ্ট ৪৯৬ হিন্দু রোহিঙ্গাকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে সীমান্তের ওপারের একটি সূত্র দাবি করেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রচারণায় এসব হিন্দু পরিবার মিয়ানমারে পালিয়ে যায়। ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে তারা মিয়ানমারে প্রবেশ করলে সেদেশের সেনাবাহিনী প্রথমে তাদের খোলা জায়গায় হাঁটাহাঁটি করিয়ে ছবি তোলে। পরে হেলিকপ্টারে মিয়ানমারের রেঙ্গুন শহরে নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারে সহিংস ঘটনায় মুসলমানদের পাশাপাশি ১৬৫টি হিন্দু রোহিঙ্গা পরিবারের ৫২৩ জন পালিয়ে আশ্রয় নেয় উখিয়ার কুতুপালং গ্রামে। মিয়ানামারের রাখাইনে চিকনছড়ি গ্রামে গণহত্যার অজুহাতে এসব হিন্দু রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে চলে আসে। এরপর এসব হিন্দু রোহিঙ্গাদের জন্য নগদ টাকা, চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ করা হয়। তাদের জন্য খোলা হয় লঙ্গরখানা।