কেউ দিল জুতার মালা! অাবার কেউ দিল ফুলের মালা


কেউ দিল জুতার মালা! অাবার কেউ দিল ফুলের মালা! পার্থক্য একটি জায়গায়। এশা ‘নারী’ তার পাশে থেকে যারা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করেছে তারাও বেশির ভাগ নারী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের নেতৃত্ত্ব চায়না এমন মানুষও সমাজে বাস করে। তারা অাবার সুযোগ বুঝে ক্ষমতাসীন দলের অাশ্রয় নিয়ে এশাদের মত নিয়মিত ছাত্রলীগ কর্মীর শ্লীলতাহানীতে উৎপেতে তাকে।
যারা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র রাজনীতিকে পুঁজি করে নিজের অাখের গোছানোতে ব্যস্ত তারাই সুযোগ বুঝে এশাদের গায়ে হাত দিতে পারে। কিংবা এশার মত নারীদের কাপড় টেনে হেছড়ে উল্লাস করে!
অামি অাগেই বলেছিলাম ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এই অনুপ্রবেশকারীদের লীপ্সার শিকার হতে হয়েছে নিয়মিত ছাত্রদের বারেবারে। যা এই সময়কার ছাত্রলীগের কর্মীরা বুঝেনা! যা বর্তমান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সম্পাদকের কামখেয়ালি মনোভাব বলে অামি মনে করি।
একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রলীগের কর্মী হয়ত অামার চেয়ে কম বুঝে তা নয়। তবু বলতে হচ্ছে ছাত্রলীগের দায়িত্ববোধ ও কান্ডজ্ঞানহীন অাচরণ নিয়ে।
কোটা সংস্কারের অান্দোলনে অামার সর্মথন ছিল। যা দেশের বেশি ভাগ মানুষও সর্মথন দিয়েছে। কোটা সংস্কারের অান্দোলনে ছাত্রলীগের একটি অংশ সর্মথন দিলেও কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদকের অবস্থান ছিল বিপরীত। তাদের বিপরীত অবস্থান দেখে সুযোসন্দানীরা রাতের অাধারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে হামলা চালায় ও লোটপাট করে। যা ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতা বলে দাবী করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

তারই ধারাবাহিতায় পরের দিন ছাত্রলীগকে কলংকিত করার জন্য যারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তারাই এশাদের কাপড় খোলতে ব্যস্ত ছিল বৈ-কি?
ছাত্রলীগ বাচবিচার না করে এশাকে বহিষ্কার করে। কোন তদন্ত কমিটি গঠন না করে যখন বহিষ্কার হল এশা! তখন কেউ এশার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেনি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে ছাত্রদের বৈঠকে ফলপ্রসূতা না হওয়া, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সংসদে ঢালাও ভাবে ছাত্রদের রাজাকার বাচ্চা বলে বক্তব্য, এশার বহিষ্কার, ভিসির বাসভবনে হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের নির্যাতন সব মিলে ঢাকা সহ সারাদেশে চলছিল ছাত্র অান্দোলনের দাবানল।
যা বিচক্ষণ ভাবে মোকাবেলা করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব কোটা বাতিলের ঘোষনা দিয়ে অান্দোলনকে থামিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সাধারণ ছাত্ররা প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধী দেয়। যার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অান্দোলনের ফলাফল বিষয়ে বলা দূরহ ব্যাপার।
তবে ফলাফল একটি জায়গায় এসেছে! ‘ এশা লাঞ্চিত হয়েছে! এশা বহিষ্কৃত হয়েছে! এশা জুতার মালা পেয়েছে! এশা অাবার ফুলের মালাও পেয়েছে!

দেশের চলমান বিচার ব্যবস্থায় ‘এশা, সত্যিকার অর্থে বিচার পাবে কিনা তা অামার জানা নেই। অামিও এশাকে শ্লীলতাহাননকারীদের শাস্তি চাই।

লেখক: রফিক মাহমুদ
সাংবাদিক ও এনজিও কর্মী

* প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব উখিয়া নিউজ- এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য উখিয়া নিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।