পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মায়ানমার যাত্রা

ঢাকা: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি ও পরিবেশ সরেজমিনে দেখতে মিয়ানমার সফরে গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।

বুধবার গভীর রাতে মায়ানমারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের নেতৃত্বে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) সদস্যরা যাচ্ছেন। তারা মায়ানমারের জেডব্লিউজি’র সদস্যদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করবেন।

মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলের ইউনিয়ন মন্ত্রী কিয়াউ টিন্ট সোয়ে’র আমন্ত্রণে এ সফরে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। বৃহস্পতিবার থেকে তার তিন দিনের আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হবে। নেপিদোতে মায়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তিনি রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যে গত বছরের নভেম্বরে চুক্তি সইয়ের পর এটাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম মায়ানমার সফর।

ad

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ও মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলের ইউনিয়ন মন্ত্রী কিয়াউ টিন্ট সোয়ে উভয়ই চীন সফর করেন এবং সেখানে বৈঠকও করেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ে চা বিরতির একপর্যায়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানে আলোচনা করেন।

সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ঘরবাড়ির সুযোগ সুবিধা, চলাফেরা এমনকি জীবিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মায়ানমার সফরের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বহুপাক্ষিক পদক্ষেপ শুরু হবে। সেখানে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও মায়ানমার মতৈক্যে পৌঁছেছে যে, তিন ধাপে রাখাইনের পরিবেশ উন্নয়নে তাদের চেষ্টা করা উচিত। ধাপগুলো হলো— সহিংসতা বন্ধ, যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরু এবং সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া।