পবিত্র কাবা ঘরে সুগন্ধি মাখালেন শায়খ সুদাইস

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কার কাবা ঘরে উন্নতমানের উদের সুগন্ধি মাখাচ্ছেন শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস।
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কার কাবা ঘরে উন্নতমানের উদের সুগন্ধি মাখিয়েছেন মক্কা-মদিনার কার্যপরিচালনা পর্ষদের প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজি আস সুদাইস।

গতকাল সোমবার ইফতারের আগে মক্কা মসজিদে কাবা শরিফের দেয়াল, হাজরে আসওয়াদ, কাবার গিলাফ ও মাকামে ইবরাহিম উন্নতমানের সুগন্ধি ‘উদ ফাখির ও আসওয়াদ’ দিয়ে সুরভিত করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে মসজিদে হারামের কার্যপরিচালনা বিভাগের প্রতিনিধি ড. মুহাম্মদ বিন আহমদ আল খুদাইরিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কাবার দেয়ালে সুগন্ধি লাগানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে- পবিত্র কাবা শরিফ ও এর আঙ্গিনা পবিত্র ও সুরভিত রাখা। পাশাপাশি উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য মনোরম, স্নিগ্ধ আবহ ও পরিবেশ বজায় রাখা। যেন সুঘ্রাণে আমোদিত হয়ে স্বচ্ছন্দ্যে ও প্রশান্ত মনে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন।

স্বাভাবিক সময়ে কাবার প্রাঙ্গণ উদ দিয়ে সুগন্ধিময় করা হয়। আর মসজিদে হারামের অভ্যন্তরে ধূপপায়ী বার্নারের (ধূপাধার) মাধ্যমে অত্যন্ত উন্নতমানের ধূপ ও লোবান দিয়ে সুরভি বিতরণ করা হয়।

করোনার কারণে মসজিদে হারামে মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ওমরাহ বন্ধ। কিন্তু মসজিদে হারামের দৈনন্দিন কাজে কোনো কমতি নেই। আগের মতো এখনো প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের আগে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণ জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার করা হয়। পরিষ্কার শেষে বিশেষ সুগন্ধি মাখানো হয়।

কাবায় মাখানো সুগন্ধিটি সৌদি আরবেই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। যদিও পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কমবেশি আতর-সুগন্ধি উৎপাদন হয়। তবে সৌদি আরব উন্নতমানের সুগন্ধি উৎপাদন করে। তাদের উৎপাদিত সুগন্ধির উল্লেখযোগ্য হলো- উদ, উদ আমিরি, উদ আসওয়াদ ও উদ ফাখির।

মুসলমানরা প্রতিদিন কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। প্রতি বছর লাখ লাখ লোক হজ ও ওমরাহ পালনে কাবায় আসেন। হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করা অন্যতম প্রধান একটি কাজ।

পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালাম কাবা ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার ছেলে হযরত ইসমাইল (আ.) আজ থেকে ৪ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহর নির্দেশে কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে শুক্রবার রমজান শুরু হয়েছে। মহামারি করোনার কারণে মসজিদে হারাম কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে রমজানের আয়োজন চালু রেখেছেন। সৌদি আরবের সব মসজিদে তারাবি বন্ধ থাকলেও সীমিত সংখ্যক মুসল্লি ও রাকাত কমিয়ে হারামাইনে তারাবি, ওয়াক্তিয়া জামাত ও জুমা চলছে। এ ছাড়া দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ওমরাহ।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন