প্রাণঘাতি এইডস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা!

পতিতাবৃত্তিতে রোহিঙ্গা নারীরা

বিশেষ প্রতিবেদক::
কক্সবাজার শহরের কলাতলীর গেষ্ট হাউজ,কটেজ আর কথিত এপার্টমেন্টগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের অনৈতিক ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চলছে। এ নিয়ে মালিকপক্ষকে প্রশ্ন করা হলে,তারা বলে থাকেন,“আমরা তো মসজিদ বানাইনি। ব্যবসা করতে এসেছি।
কলাতলীর গেষ্ট হাউজ আর কথিত এপার্টমেন্টগুলোতে পতিতাবৃত্তি,জুয়ার আসর আর মাদক ব্যবসা নিয়মিত ব্যাপার।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের কলাতলীতে শতাধিক কটেজ ও ৭০টি এপার্টমেন্টে কক্ষ ভাড়া দেয়া হয়। এপার্টমেন্টগুলোর মালিক প্রায় সবাই রাজধানী ঢাকার। ম্যানেজার এবং কেয়ারটেকার নিয়োগ দিয়ে এপার্টমেন্টগুলোর তদারক করা হয়। গেষ্ট হাউজ,কটেজ
গুলোর পাশাপাশি এপার্টমেন্টগুলোর কক্ষও পর্যটকসহ অন্যদের ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে।

জানা যায়,কলাতলীতে এ ও বি ব্লকে অবস্থিত অধিকাংশ কটেজ ও এপার্টমেন্টে সব ধরণের অপকর্ম চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, হোটেল মোটেল জোন ও কলাতলীস্থ বিভিন্ন কটেজ মালিকদের কাছ থেকে উপভাড়া নিয়েও একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠী নারীদেহ
,মাদক এমনকি অস্ত্রের ব্যবসাও করছে এসব গেষ্ট হাউজ ও এপার্টমেন্টে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,গেষ্ট হাইজ ও এপার্টমেন্ট গুলোর প্রধান ব্যবসা হলো পতিতাবৃত্তি। ২৪ অক্টোবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক প্রকাশিত তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে,অনুপ্রবেশকারী ৫০০ রোহিঙ্গা নারী কক্সবাজার শহরে এসে দেহদান করছে। এরা শহরের কলাতলীর হোটেল-গেষ্ট হাউজ-কটেজ এবং এপার্টমেন্টে এসে এই অপকর্মে নিয়োজিত হয় বলে জানা যায়।

রয়টার্স এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,এ সব রোহিঙ্গা নারী যৌনকর্মীরা কক্সবাজারের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কাছে নিজেদের বিক্রি করেন। এইচআইভির মতো যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকলেও এই নারীদের এ সব বিষয়ে স্বচ্ছ কোনো ধারণা নেই। রয়টার্সের ওই রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়,“উখিয়ার কুতুপালংয়ে রয়েছে সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শিবির। সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সেখানে আগে থেকেই ছিলেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। রয়টার্স বলছে, পুরানো রোহিঙ্গা নারীরাই মূলত পতিতাবৃত্তিতে থাকা নারীদের চালায়। আর তাতে যোগ দিচ্ছেন নতুন আসা রোহিঙ্গা নারীরা।

নুর নামে এক দালাল ওই রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘১৯৯২ সালে স্থাপিত কুতুপালং শিবিরের অন্তত ৫০০ নারী যৌন ব্যবসায় জড়িত। নতুন আসা রোহিঙ্গা নারীদের দিকেও নজর দিয়েছে নিয়োগকারীরা।’

জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপি’র জেন্ডার বিশেষজ্ঞ সাবা জারিব রয়টার্স’র কাছে কুতুপালংয়ে যৌনকর্মী থাকার কথা স্বীকার করলেও সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছেন।”
কলাতলীর হোটেল জোনে রোহিঙ্গা মেয়েদের সাথে স্থানীয় যুবক,ছাত্র,ব্যবসায়ী এমনকি কক্সবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর পুরুষসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতার যৌন সম্পর্কের কারণে সহসাই শহরের এইডস রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা করেছেন একাধিক এনজিও কর্মী। রোহিঙ্গা নারীদেহ ভোগকারী এইসব লম্পট ছাত্র,
ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার কারণে কক্সবাজারে এইডস ছড়ালে তাা রীতিমতো বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আশংকা অনেকের। সর্বোপরি কক্সবাজার এইডস জোনে পরিণত হলে ধ্বংস হয়ে যাবে এখানকার পর্যটনখাত,এমন আশংকা সচেতন মহলের।

কক্সবাজার হোটেল-গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সমুদ্রকন্ঠকে তাদের সমিতিভূক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের দ্বারা পতিতাবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন,বিষয়টি যেহেতেু স্পর্শকাতর,তাই এব্যাপারে আরো সজাগ থাকতে হবে।

তিনি জানান, হোটেল-গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির পরবর্তী সভায় এই নিয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে। বিশেষ করে, যে কোনো নারী অতিথির ক্ষেত্রে তাদের বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য করণীয় সব করা হবে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী ৯৬ জন রোহিঙ্গার মাঝে এইডস জীবাণু ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ।

কক্সবাজারের এনজিও ব্যক্তিত্ব আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা জানান,মায়ানমারে এইডস এর প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশের চেয়ে অন্ততঃ ১৯গুণ বেশী। তিনি বলেন,রোহিঙ্গারা সন্দেহ করছে, স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে তাদের নারীরা মায়ানমারের সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গেলে তাদের কয়েক ধরণের টিকা দেয়া হতো। তাদের আশংকা,মায়ানমার সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এইডসের জীবাণু অনেক নারীর শরীরে টিকার মাধ্যমে ঢুকিয়ে দিয়েছে। যাতে পরবর্তীতে রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যাপক হারে এইডস এর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মায়ানমার জান্তা এইডস সংক্রমণের অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।
জনাব খোকা,এই আশংকাটিকে অমূলক বলে উড়িয়ে না দিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মাঝে এইডস এর সংক্রমণ বেশী থাকার কারণ উদঘাটন করার আহ্বান জানান।কক্সবাজার মেইল