নববর্ষের ফাঁদ, বন্ধু কর্তৃক বান্ধবী ধর্ষিত

নববর্ষ পালনের প্রলোভন দেখিয়ে পটিয়া উপজেলা বড়লিয়া গ্রামের এক গামের্ন্টস কর্মীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তার কথিত বন্ধুদের বিরুদ্ধে। রিপন (২৬) নামে এক প্রতারক ও তার বন্ধু পৈশাচিক এ কাণ্ড ঘটায়।

আজ রবিবার বন্ধুদের সাথে চট্টগ্রাম শহরের ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। রাত পৌনে ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই কিশোরী অপারেশন চলছিল।

চিকিৎসকরা জানান, ওই কিশোরীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। এখন সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্ষিতা কিশোরী ও প্রতারক রিপন পটিয়ার বিসিক শিল্প এলাকার আরেফিন টেক্সটাইলের কর্মী। একইসঙ্গে একই টেক্সটাইলে কাজ করার সূত্র ধরে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এদিকে নববর্ষ উদ্‌যাপন করতে ওই কিশোরীকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতারক রিপন। রোববার সকালে ওই কিশোরীকে নিয়ে রিপন পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসে। রিপন শহরে এক বন্ধুর বাসায় কিশোরীকে নিয়ে যায়।

ওই কিশোরী এর আগে কখনো চট্টগ্রাম আসেনি। তাই নগরের ঠিক কোন স্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেটি সে জানাতে পারেনি।

নগরের ওই বাসায় আগে থেকেই ধর্ষণের পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখে রিপন ও তার বন্ধু। কিশোরীকে ওই বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ওই দুই পিশাচ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. আমির জানান, সন্ধ্যার সময় পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক কিশোরীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। রিপন ও তার বন্ধুরা তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানতে পেরেছি।

রাত সাড়ে ৯টায় চমেক হাসপাতালে ধর্ষিতার মা বলেন, ব্যাগ কেনার কথা বলে সকালে আমার মেয়ে ঘর থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় খবর পাই মেয়ের এই অবস্থা। দুই পিশাচ আমার মেয়ের সঙ্গে এমন করেছে।

এখন আমার মেয়ের অবস্থা ভালো না, প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমি আমার নাবালক মেয়ের সঙ্গে হওয়া এই অন্যায়ের বিচার চাই।

ad