ad

দুর্নীতির কারণে বদিকে নয়, তার স্ত্রীকেনমিনেশন: কাদের

ঢাকা: তিনটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিরিয়াস জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, তিনি সেভাবেই মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির মামলায় কিন্তু আমাদের অনেক এমপি কারাগারে। যে জন্য আমরা বদিকে নমিনেশন দেইনি। তার ওয়াইফকে আমরা নমিনেশন দিয়েছি টেকনাফ অঞ্চলে।

মন্ত্রিসভার শপথের পরদিন মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চলবে, যে অভিযান শুরু হয়েছে এটা আরো জোরদার হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে মাদক সুনামির মতো সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এখনই জিরো টলারেন্স যদি আমরা প্রদর্শন করতে না পারি তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের তরুণ সমাজের জন্য এটা অশনি সংকেত হয়ে যাবে। কাজেই মাদকের ব্যাপারটা ফাস্ট প্রায়োরিটি, মাদকের সঙ্গে করাপশনও আছে।

‘আর একটা বিষয় হলো আমরা এবার সুশাসনের বিষয়ে অধিকতর মনোযোগ দেবো। এসব বিবেচনায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ফেসেস নিয়ে তার কেবিনেট সাজিয়েছেন।’

সুশাসনের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আগে বঙ্গবন্ধুর সরকার মাত্র সাড়ে তিন বছর ছিল। আমরা আসলাম ২১ বছর পর, ৯৬ থেকে ২০০১। এই সময়ে আমরা যেটা শুরু করলাম, একেবারে পণ্ড ও পরিত্যক্ত হয়ে গেলো ২০০১ সালের পর। আবারো আগের ধারায় ফিরে গেলো।

‘তারপর আবার আমরা এলাম। চ্যালেঞ্জ তো এখানে আছে। ম্যাজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন হবে না, এটা আশা করে লাভ নেই। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, আমরা যারা দেশ চালাই এখানে সমস্যা আছে। করাপশন ইটস অ্য ওয়ে অব লাইভ। সারা পৃথিবীর ইস্যু, বাংলাদেশ তো ব্যতিক্রম কিছু নয়।’

তিনি বলেন, তাছাড়া এখানে ২১টা বছর যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ, এ বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার করেছে। রাতারাতি এর মূল উৎপাটন সম্ভব না। এটাও আমাদের সমন্বিত ও সর্বাত্মক চেষ্টা থাকতে হবে, সঙ্গে জনসমার্থন থাকতে হবে।

‘এখনও সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ যেটাই বলুন না কেন- এটার শিকড় একেবারে রাতারাতি যায়নি। পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে এই বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার করেছে, কাজেই এর উৎপাটনও চ্যালেঞ্জিং, একটা সমন্বিত কাজ। কাজেই সময় লাগবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি, মাদক এবং এ বিষয়টাও (জঙ্গি-সাম্প্রদায়িকতা) সময় লাগবে। তবে সরকার খুবই আন্তরিক, প্রাইম মিনিস্টার নিজেই সিরিয়াস। যে কারণে তিনি তার নতুন মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজিয়েছেন, সবকিছু মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। ট্রান্সপারেন্ট ম্যানারে দেশটা তিনি চালাতে চান।

‘সুশাসনের জন্য আমাদের সাংবিধানিক যে প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রাখবে।’

মাদক ও দুর্নীতির বিষয়ে দলের লোকদের বিরুদ্ধে অভিযান কেমন হবে- জানতে চাইল তিনি বলেন, ইন-অ্যাকশনটাও অনেক সময় অনেক অপকর্মের মূলে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে অনেক অঘটনই ঘটবে। যেমন ধরেন, আমাদের সুবর্ণচরে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আমরা কিন্তু প্রাইম মিনিস্টারের নির্দেশে উপজেলার সেক্রেটারি, মেম্বারকে বহিষ্কার করেছি। বাকি যারা গ্রেফতার হয়েছে, দলের লোকও আছে।

‘দুর্নীতির মামলায় কিন্তু আমাদের এমপি কারাগারে। যে জন্য আমরা বদিকে নমিনেশন দেইনি। তার ওয়াইফকে আমরা নমিনেশন দিয়েছি টেকনাফ অঞ্চলে। শাহজাদপুরে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হত্যার অভিযোগ রয়েছে, তিনি জেলে আছে। অপরাধ যেই করুক, অপরাধের শাস্তি হবে। এ ব্যাপারে প্রাইম মিনিস্টারের টলারেন্স, একেবারে শূন্য সহনশীল ছিল। তিনি দেশ চালাচ্ছেন এবং এবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে তিনি এ বার্তাটাই আবার পৌঁছালেন যে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের ব্যাপারে সরকার শতভাগ আন্তরিক। নট অনলি সিনসিয়ার, বাট সিরিয়াস।’

ad