রোহিঙ্গা নিপীড়নের মাত্রা কল্পনা করাও দুঃসাধ্য

দায় এড়ানোর সুযোগ নেই মিয়ানমারের

নিউজ ডেস্ক::
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়েছে বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত: আজ শিশুদের সুরক্ষা করলে বন্ধ হবে আগামী দিনের সংঘাত’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ কথা জানান। তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও তাদের শিশুদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে তা কল্পনায় আনাও দুঃসাধ্য। নিরাপত্তা পরিষদের এ মাসের সভাপতি সুইডেন আয়োজিত ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে ৯০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘হত-বিহ্বল, অসহায় এক রোহিঙ্গা শিশুকে কোলে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাবয়বে বেদনাক্লিষ্ট ও ক্ষতবিক্ষত যে দৃশ্য ফুটে উঠেছিল সেই ছবি পরিণত হয়েছে বিশ্ব আইকনে। আমরা মিয়ানমারের নেতৃত্বের কাছে এটাই প্রত্যাশা করব তারা যেন সেই কাজটিই করে যাতে শিশুদের উপর সহিংসতার এমন ভয়াবহ চিত্র বিশ্ববাসীকে আর দেখতে না হয়’।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ওই রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৫৮ ভাগই শিশু। এ পর্যন্ত অনাথ শিশু পাওয়া গেছে ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন। মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে এমন শিশু রয়েছে ৭ হাজার ৭৭১ জন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পিতা-মাতাহীন এসব শিশুরা আজ মানবপাচার, যৌন নির্যাতন এবং বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘নিজভূমিতে ফিরে যাওয়াসহ সকল অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনুকূল, টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মিয়ানমারের কোনোভাবেই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।’

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও লিকটেনস্টেইনসহ জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত সহিংসতা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের হত্যা, ধর্ষণসহ যৌন সহিংসতার কথা তুলে ধরে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখাইন যাচ্ছেন: আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো সহায়ক পরিবেশ মিয়ানমার তার রাখাইন রাজ্যে সৃষ্টি করেছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ নিতে শীগগীরই ওই রাজ্যে সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় একটি কর্মশালা শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র সচিব আশা করেন, রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হলে শীগগীরই প্রত্যাবাসন শুরু করা যাবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি জটিল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশে এটি যত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে অন্য দেশে (মিয়ানমারে) তত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়নি।’

দ্রুত সমাধান দেখছে না আইসিআরসি : এদিকে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা রাখাইন রাজ্য সফর শেষে পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে মন্তব্য করেছেন। জেনেভা থেকে ফরাসি টিভি চ্যানেল ফ্রান্স টুয়েন্টিফোরকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান না হওয়ার ইঙ্গিত দেন। পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য তিনি মিয়ানমারের অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার মতো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।