দাম্পত্যে রোমান্স

টাকা-পয়সা, অবয়বের সৌন্দর্য বিবাহিত জীবনকে সুখী করতে পারে না। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। একটি ভালোবাসাময় সুখী বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবার মধ্যে যে গুণটি থাকা প্রয়োজন, তা হল- আন্তরিকতা। আন্তরিক বলতে এমন কাউকে বোঝায়, যিনি হবেন বিনীত, নমনীয়, বিশ্বাসযোগ্য, ভালো স্বভাব, সহযোগী মনোভাবাপন্ন, ক্ষমাশীল, উদার ও ধৈর্যশীল।
অন্য আরেক দল গবেষক মনে করেন, ভালোবাসাই একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে হৃদয়ের অটুট বন্ধন তৈরি করে দেয়। তৈরি করে সাংসারিক বন্ধন। ভালোবাসা ছাড়া কোনো সাংসারিক কিংবা দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের পরিপূরক। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজন শূন্য, ফাঁকা।
একজন সুন্দর মনের ও সুন্দর গুণের স্ত্রী সংসারকে তার নিজের আলোয় আলোকিত করে তুলতে পারেন। সাজিয়ে তুলতে পারেন সংসার জীবনকে সুখের স্বর্গীয় বাগানের মতো করে। তবে এ কাজের জন্য দরকার স্ত্রীর প্রতি প্রেমিক স্বামীর ঐকান্তিক মায়া-মমতা ও সুগভীর ভালোবাসা। এ ভালোবাসা থাকলে দেখবেন, বিবাহিত জীবনে সুখ কাকে বলে!
একে অপরকে চিনুন
বিয়ের ক্ষেত্রে একে ওপরকে চেনাটা খুবই জরুরি। মতানৈক্য হতেই পারে। দু’জন আলাদা মানুষ, তাদের আলাদা চিন্তাভাবনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার জেরে যদি বাড়িতে কাক আর চিল বসতে না পারে তা হলে কিছুই করার নেই। তাই এক অপরের কথা শুনুন এবং পরে মাথা ঠাণ্ডা হলে অপরকে বুঝিয়ে বলুন, দেখবেন ঝামেলা মিটে যাবে।
ক্ষমা করতে শিখুন
ভুল মানুষ মাত্রই হয়ে থাকে। তবে সেই ভুলটাকে ধরে বসে থাকবেন না। মাথা ঠাণ্ডা করে স্বামী অথবা স্ত্রীকে ভুলটা ধরিয়ে দিন। তারপর তাকে ক্ষমা করে দিন। ক্ষমা করার ওপরে কোনো কথাই থাকতে পারে না। ক্ষমা করার পর এই ভুল নিয়ে আর কখনই কোনো কথা বলবেন না। ভুলের কথা সম্পূর্ণভাবে ভুলে যান।
চুপ করে থাকতে শিখুন
চুপ করে থাকা একটা বড় কাজ। বিবাহিত জীবনে মাঝে মধ্যে চুপ করে থাকলে কিছুই যায় আসে না। তাই একজন বেশি কথা বললে নিজে একটু চুপ করে থেকেই দেখুন না কী হয়!
আনন্দে থাকুন
নিজের বাবা-মাকে এত দিন রাগ দেখিয়েছেন বলেই যে বউ অথবা স্বামীর ওপরেও রাগ দেখাবেন সব সময় তা কখনই নয়। ঝগড়া করার সময়-ঝগড়া করার পর মিটিয়ে নিয়ে, বেশিরভাগ সময়ই মুখে একটা প্লাস্টিক হাসি লাগিয়ে রাখুন দেখবেন দাম্পত্য জীবনের চাকা গড়গড়িয়ে ঘুরবে।
বউয়ের নিয়ম মেনে চলুন
বিয়ের আগে মায়ের বারণ শোনেননি বলে যে বিয়ের পর বউয়ের বারণকেও চোখ রাঙাবেন তা কখনই চলবে না। সদা বাড়িতে বউয়ের বারণ শুনে চলবেন। ধরুন আপনার স্ত্রী ঘর গুছিয়ে রাখার বাতিক আছে। কিন্তু আপনি ঘর গোছানো থাকলে কোনো জিনিস ঠিক ঠাক খুঁজে পান না। কিন্তু কী আর করবেন তার মতে ক’দিন চলেই দেখুন না। আস্তে আস্তে স্বভাব পরিবর্তন হয়ে যাবে আপনারও।
অফিসের কাজ বাড়িতে নয়
অফিসের কাজ কখনই বাড়িতে করবেন না। অফিসের যাবতীয় চিন্তাভাবনা এবং ফেলে আসবেন অফিসের মধ্যেই। তাকে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে এসে নিজের কাছের মানুষদের ওপর রোজ ওই রাগ দেখালে আর দাম্পত্য জীবন টিকবে না।
বন্ধুত্ব বজায় রাখুন
বিয়ে করেই টিপিক্যাল স্বামী-স্ত্রীতে পরিণত হয়ে যাবেন না। দেখবেন দু’জনের মধ্যে যেন বন্ধুত্বটি বর্তমান থাকে। বন্ধুত্ব থাকলেই আর কোনো অসুবিধা হবে না।
দায়িত্ব নিতে শিখুন
বিয়ে করেছেন ঘরে মাকে সাহায্য করার জন্য বউ এনে দিয়েছেন বলেই সব দায়িত্ব নিজের গা থেকে ঝেড়ে ফেলবেন না। সব সময় পরিবারের সবার দায়িত্ব নিজের। অফিসে কাজের দোহাই দিয়ে ইলেক্ট্রিকের বিল বা ব্যাংকের কাজ এড়িয়ে তা কখনই বউয়ের ওপর চাপিয়ে দেবেন না।
খারাপ সময় পাশে থাকুন
যে কোনো খারাপ সময়ের জন্য নিজের জীবন সাথীকে কখনই দায়ী করবেন না। যদিও আপনি জানেন তিনিই দায়ী। সেই খারাপ সময় তার পাশে দাঁড়ান। তার সব থেকে বড় শক্তি হয়ে উঠুন। যখন সারা দুনিয়া আপনার সাথীর অপরদিকে চলে যাবে তখনও তার হাতটাকে শক্ত করে ধরে থাকুন। দেখবেন কোনো দিন টলমল করবে না সম্পর্কের সেতু।
কিছু কথা না বলাই ভালো
বিবাহিত জীবনে সব সময় সত্যি কথা কখনই বলবেন না। কোনো ভালো কাজ করতে গেলে যদি মিথ্যা কথা একটু আধটু বলতেও হয় তা হলে কোনো ভুল হয় না। ধরুন আছেন বন্ধুদের সঙ্গে একটি পার্টিতে সেখানে বলতেই পারেন অফিসের একটা খুব জরুরি মিটিংয়ে আছেন।
বন্ধুদের সুখ্যাতি একদম নয়
নিজের পরম বন্ধুর সুখ্যাতি করা একদম ভুলে যান। বন্ধুকে কখনই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের মাঝখানে স্থান দেবেন না।
সারপ্রাইজ দিন
বিয়ের বহু বছর পরও যাতে প্রেম আপনাদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে না পারে তার জন্য একে ওপরকে সারপ্রাইজ দিন। দেখবেন এ সারপ্রাইজের মাধ্যমেই আপনাদের মধ্যেকার প্রেম নতুনভাবে জেগে উঠবে।