সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর বার্ষিক সাধারণ সভায় রুহুল আমিন গাজী

তেল মারার সাংবাদিকদের কারণে গণমাধ্যমের করুণ দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, সংবাদপত্রে সঠিক সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে না। বস্তুনিষ্ট, তথ্যনির্ভর ও অনুসন্ধানী সংবাদ লিখার পূর্বেও দশবার ভাবতে হয়। দেশে খুন, ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলছে। তবু তেল মারার সাংবাদিকদের কারণে গণমাধ্যমের করুণ দশা।

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর বার্ষিক সাধারণ সভায় রুহুল আমিন গাজী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে বিচার ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই। কোন ধরণের ঘটনা ছাড়াই ফাঁসি-যাবজ্জীবন দ-াদেশেই প্রমাণ যে, দেশের আদালত কোন অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে?

কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মূহম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) শহরের কলাতলীর একটি কনফারেন্স হলে এ সভায় সাংবাদিক নেতা গাজী আরো বলেন, আকাশে কালা মেঘ বেশি স্থায়ী হবে না। শীঘ্রই এই মেঘ কেটে যাবে।

তিনি বলেন, দেশের ৫ শতাংশ মানুষও আওয়ামী লীগের পক্ষে নাই। আওয়ামী লীগের করুণ দশার জন্য তাদের কর্মই যথেষ্ট। দেশের অন্য কোন খঅতে তেমন উন্নয়ন না হলেও খুন খারাবির প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। সঠিক জবাব দেয়ার জন্য দেশের আমজনতা অপেক্ষায় আছে।

বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকারী’ মন্তব্য করে বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশের গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে বেগম জিয়ার ত্যাগ স্মরণে রাখার মতো। শুধু এই অপরাধে তাকে বিনা বিচারে কারা ভোগ করতে হচ্ছে। আন্দোলনের মাধ্যমে জালিমের কারাগার থেকে তাকে কারামুক্ত করতে হবে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদের সঞ্চালনায় বার্ষিক সাধারণ সভার প্রধান বক্তা বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেছেন, দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা নেই। গণমাধ্যমকে শেকলমুক্ত করতে সাংবাদিকের আপোষহীন লিখনি চালাতে হবে। দালাল সাংবাদিকদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

তিনি বলেন, নীল নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ মিডিয়া দমনে ব্যস্ত হয়ে গেছে। তারা সংবাদপত্রকে ভয় পায়। তাই তারা সাংবাদিকদের ঠুঠি চেপে ধরতে চায়। মিডিয়া দমন আওয়ামী লীগের পুরনো চরিত্র। এবার ক্ষমতায় এসেও তার নগ্ন চরিত্রের প্রমাণ দিয়েছে।

তিনি বক্তব্যে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদের বিরুদ্ধে সমন জারীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দেন।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, ভোটাধিকার হরণের কারণে শুধু সাধারণ জনগণ নয়, আওয়ামী লীগের তৃণমূলেও তুমুল হতাশা। সময়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। কাজল বলেন, ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়। বেপরোয়া ক্ষমতা ব্যবহারের পরিণতি কিন্তু খুবই কঠিন। সহসভাপতি শামসুদ্দিন হারুন বলেন, এই মেঘ কেটে যাবে। সাহস শক্তি সঞ্চয় করুন।

সভার বিশেষ অতিথি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিআরইউ) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী বলেন, কিছু কালো টাকার মালিক দালালির জন্য বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশ বনে গেছেন। তারা মহান পেশাটির জন্য বড় সমস্যা। এসব দালাল মিডিয়ার কাছে ৩০ বছর চাকুরি করেও সাংবাদিকেরা বকেয়া বেতন পায় না। আমরা হলুদমুক্ত সাংবাদিকতা চাই। সব বাধা পেরিয়ে আমাদের সামনে এগুতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিআরইউ) এর সাধারণ স¤পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে কারো জীবন নিরাপদ নয়। প্রতিটি গ্রামে নয়ন বন্ডরা লুকিয়ে আছে। সরকারের পতনের জন্য আওয়ামী লীগের লোকজনই যথেষ্ট। তিনি বলেন, জাতির বিবেক জাগিয়ে তুলতে হবে। পেছনে তাকাবার সময় নেই। কঠিন শপথে সামনে যেতে হবে। প্রস্তুতি নিন। লড়াই সংগ্রামে আমাদের জিততে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব সুলেখক আহমদ মতিউর রহমান বলেন, দেশে কোন সেক্টরে আশার আলো নেই। চারিদিকে অন্ধকার।

যুগ্মসাধারণ স¤পাদক জিএএম আশেক উল্লাহ বলেন, দেশে গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। মানবাধিকার বলতে নেই। মানবাধিতার সংগঠনগুলোও নিশ্চুপ। সাংবাদিকরা লিখতে গেলে সমস্যা। দেশে ভয়াবহ অবস্থা।

তিনি বলেন, সংবাদপত্রগুলো স্বাধীন নয়। মানুষের সমস্ত আশ্রয়স্থলগুলো সংকোচিত হয়ে গেছে। দেশে কথা বলার কোন মঞ্চ নেই বললে চলে। এসবের মধ্যেও আমরা কাজ করছি।

বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক সৈকতের সম্পাদক মাহবুবর রহমান, সহসভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী, কক্সবাজারের প্রবীন সাংবাদিক এসএম আমিনুল হক চৌধুরী।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন