তেপ্পান্নতে পা দিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশের দক্ষিণ-অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। বাংলাদেশের সর্ব-বৃহৎ ও বিশ্বের একমাত্র শাটল ট্রেনের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রবিবার ৫৩ তম জন্মদিন। এর মধ্যদিয়ে বায়ান্নটি বছর পেরিয়ে তেপ্পান্নতে পা রাখলো শাটল ট্রেন ও কাটা পাহাড়ের এই বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যাপীঠ।চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে পাহাড়ি ও সমতল ভূমি মিলিয়ে ১৭৫৩.৮৮ একর ভূমিতে এর অবস্থান।
মাত্র ৮ জন শিক্ষক, একটি অনুষদে চারটি বিভাগের (বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতি) ২০৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন প্রফেসর ড. আজিজুল রহমান মল্লিক।

এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ ও অধ্যাপনা করেছেন। যার মধ্যে ১ জন নোবেল বিজয়ী এবং একাধিক একুশে পদক বিজযী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

দেখতে দেখতে কেটে গেছে বায়ান্নটি বছর। আর এই বায়ান্ন বছরে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও সাতটি ইনস্টিটিউটে রয়েছে প্রায় ২৮ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের (৮টি ছেলেদের ও ৪ মেয়েদের) জন্য রয়েছে সর্বমোট ১২টি আবাসিক হল।

এছাড়াও নগরের বাদশা মিয়া রোডে রয়েছে চারুকলা ইনস্টিটিউটের জন্য একটি হোস্টেল।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।

এখানে রয়েছে চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার অদূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে স্থানটি দখল করে নেয় শাটল ট্রেন। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী শাটল ট্রেন ব্যবহার করে। তাই শিক্ষার্থীদের নানা স্মৃতি মিশে আছে এই শাটল ট্রেন ঘিরে। শাটল ট্রেনের বগির দেয়াল চাপড়ে গাওয়া গান, প্রিয় ক্যাম্পাস, কাটা পাহাড়ের রাস্তা, ঝুপড়ি, ঝুলন্ত ব্রীজের নানা স্মৃতিগুলো আজও ঢেকে বেড়ায় সাবেক শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম জন্মদিন এ স্মৃতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত স্টিকার ফেসবুক প্রোফাইলের ছবিতে ব্যবহার করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জনি আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখনো মনে পড়ে। সেই ক্লাস, শাটল ট্রেন, ঝুপড়িতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা-প্রত্যেকটি স্মৃতিগুলো এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা। ভালো থাকুক, ভালোবাসার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এদিকে চবির ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের মূল ফটক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নানা রঙের আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দিনটি পালনে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে চবি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ বলেন, যথাযোগ্যভাবে ‘বিশ^বিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন করার উদ্দেশ্যে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে সকাল ১০.৪৫ মিনিটে (চবি শহীদ মিনার-বঙ্গবন্ধু চত্বর) বর্ণাঢ্য র‌্যালি হবে।

শোভাযাত্রা শেষে সকাল ১১টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বেলা ১১.২০ মিনিটে চবি উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন