ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন পেলো কক্সবাজার থেকে একই পরিবারের দুই ভাইবোন

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার ::

অধ্যয়ন ও জ্ঞান আহরণ শেষে আত্ম প্রতিষ্ঠার এই যাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একই পরিবারের দুইজন ভাইবোন পেলো একসাথে সমাবর্তন। এ দুই কৃতি শিক্ষার্থী হলেন আবু হেনা মোস্তাফা কামাল এবং জাকিয়া আজাদ সুমাইয়া। কক্সবাজারের খ্যাতিমান বয়োজেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল হোসেন আজাদের ১১ সন্তানের মধ্যে এরা দুজন। বর্ণাঢ্য আয়োজনে সনদপ্রাপ্তির এঅনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার যোগ্যতা ও সৌভাগ্য অর্জন করায় কক্সবাজারবাসীর জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষা সচেতন ব্যাক্তিবর্গ।

সমাবর্তন শেষে এদুই শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যাক্ত করে বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাবর্তন পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। সেই সাথে আমরা একই পরিবারের দুই ভাইবোন একসাথে সমাবর্তন পেয়েছি এটা খুব ভালো লাগছে। ছোটো বেলা থেকে আমরা দুইভাইবোন একসাথে বড় হয়েছি। জ্ঞান অর্জন এবং আত্ম প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্ঠা যেনো আমরা অব্যাহত রাখতে পারি এবং দেশ জাতির সেবায় নিজেদের সপে দিতে পারি এজন্যে আমরা সকলের দোয়া কামনা করেছি। এছাড়াও জীবন গড়ার পথে এতদুর আসার পেছনে যাদের অবদান এবং সহযোগীতা রয়েছে তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে তারা তাদের রত্মগর্ভা মা রেহেনা আজাদকে এই অর্জন উৎসর্গ করতে চান বলেও জানান।

ad

এই দুই কৃতি শিক্ষার্থীর পিতা কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সাংবাদিক কামাল হোসেন আজাদ জানান, দুই সন্তান এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাবর্তন পেয়েছে এটা নিয়ে তিনি খুব একটা আবেগ আপ্লুত নন। তবে তিনি বলেন, দেশের যারা আমাদের মত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর রয়েছে তাদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই যুগে এসে ছেলে সন্তান অনেক হলেও কোনো সন্তানকে অমানুষ বানাইনি। পড়া লেখা করিয়ে মানুষ মানুষ বানানোর চেষ্টা করেছি। দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। এমনকি প্রত্যেকটি সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ বানাতে যে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি তার এখন সুফল আসতে শুরু করেছে। এমনকি আমার আরও দুই সন্তান ঢাকা পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা-প্রকৌশলী হিসেবে পাশ করে বের হয়েছে। এর পরের সন্তানটিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়ন করছে। এর পেছনে সবচাইতে বেশি অবদান রয়েছে তাদের মায়ের।

এছাড়াও সন্তানদের এই কৃতিত্ব অর্জনে অবদান রাখায় সকল শিক্ষক, শুভাকাঙ্খী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।