ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৃথক সার্ভিস লাইনসহ নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত হলেও উভয়পা ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ না হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল হচ্ছে। পৃথক সার্ভিস লাইনসহ মহাসড়কটি উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এরই মধ্যে প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ফলে ৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কটি (এন-১) জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মহাসড়কে যানবাহনের পরিমাণ ও গুরুত্ব বিবেচনায় সেবার মান বড়ানোর লক্ষ্যে গত ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পিপিপি পদ্ধতিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরে ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর তারিখে এক্সপ্রেসওয়েটির তিনটি এলাইনমেন্টের ওপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সমান্তরালে এ্যাটগ্রেড ও এলিভেটেড সমন্বয়ে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সম্মতি দেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৪-লেন বিশিষ্ট এই মহাসড়কে এ্যাটগ্রেড ও এলিভেটেড সমন্বয়ে এক্সপ্রেসওয়ে হিসাবে নির্মাণের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ‘টেকনিক‌্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর ডিটেইলড স্ট্যাডি অ্যান্ড ডিজাইন অব ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে অন পিপিপি বেসিস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিশদ সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় নিয়োগকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাল্টিক্রাইটেরিয়া এনালাইসিস পদ্ধতিতে তিনটি এলাইনমেন্ট ও পাঁচটি অপশনের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে টেকনিক‌্যাল, ফিনান্সিয়াল, ইকোনমিক, সোস্যাল ও এনভায়রনমেন্টাল সমীক্ষা শেষে ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট তারিখে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

বিস্তারিত সমীক্ষা ও প্রণীত নকশা অনুযায়ী প্রধানত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের বিদ্যমান এলাইনমেন্ট ধরে ঢাকা-কুমিল্লা, কুমিল্লা-ফেনী এবং ফেনী-চট্টগ্রাম এ তিনটি পর্যায়ে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সুপারিশ করা হয়েছিল। সমীক্ষা পরিচালনায় ও বিশদ নকশা প্রণয়নে ইতোমধ্যে ৯৭ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

সূত্র জানায়, পিপিপি কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজর নিয়োগ করে। ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজর প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করে।

প্যাকেজগুলো হচ্ছে- ঢাকা-কুমিল্লা ৮৪ কিলোমিটার (এলিভেটেড ২.৪৮ কিলোমিটার), প্যাকেজ; কুমিল্লা-ফেনী ৫২.০ কিলোমিটার (এলিভেটেড ৩.১৫ কিলোমিটার) প্যাকেজ এবং ফেনী-চট্টগ্রাম ৮৫.৯৫ কিলোমিটার (এলিভেটেড ৮.৯৫ কিলোমিটার)। পিপিপি পদ্ধতিতে এক্সেস কন্ট্রোল্ড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালে অর্থ বিভাগ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভিজিএফ অনুমোদেন দেয়।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়হগুলো পর্যায়ক্রমে ৪-লেনে উন্নীত করা হবে এবং উভয়পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হলেও উভয় পাশের ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়নি।

বিদ্যমান মহাসড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করাসহ বিদ্যমান সড়ক প্রশস্থ করা হলে মূল মহাসড়কে যানবাহনের উচ্চগতির কারণে বর্তমান সময়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে এবং নিরাপদে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা সম্ভব হবে।

এ পর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ না করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ক্রমাগত যানবাহন চলাচলের অধিক্য এবং ভবিষ্যত গুরুত্ব বিবেচনায় এই মহাসড়কটির সম্প্রসারণের আবশ্যকতা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা/অনুশাসন প্রত্যাশা সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী গত ২০১৯ সালের ১৭অক্টোবর এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এতে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কার্যক্রম বাতিল, বিদ্যমান ৪-লেন বিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং এ মহাসড়কের উভয় পাশে পৃথক সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রশস্তকরাসহ মহাসড়কের উভয় পাশে পৃথক সার্ভিসলেইন নির্মাণের জন্য বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহন।

এ অবস্থায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ বাতিলের একটি প্রস্তাবে অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন