ট্রুডো-হাসিনা আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুর প্রাধান্য

ডেস্ক রিপোর্ট::
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ইহসানুল করিম জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সে দেশে বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যু আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘লা পেটিট ফ্রন্টেন্সে’ দুই দেশের প্রধামন্ত্রীর মধ্যে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো: নাজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো: শহিদুল হক। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস জানিয়েছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তির প্রসঙ্গে ট্রুডোর সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিচ্ছে না নেপিদো।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সহায়তা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য কানাডার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একাংশকে নতুন আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্যই পাহাড়ের ওপর থেকে সরিয়ে তাদেরকে ভাসান চরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাহাড়ের ওপরে থাকা অস্থায়ী ঘরগুলো আর নিরাপদ ছিল না।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার জন্য গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, সিনেট, হাউজ অফ কমনস এবং কানাডীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ এবং মানবাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে কানাডার সংবাদমাধ্যম বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া পলাতক আসামী নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠাতে আবারও কানাডার সরকারকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (১০ জুন) এক বৈঠকে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে এই অনুরোধ জানান তিনি। ট্রুডো হাসিনাকে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ নিয়ে কাজ করছেন।